1. info.nagorikvabna@gmail.com : Rifan Ahmed : Rifan Ahmed
  2. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  3. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  4. holysiamsrabon@gmail.com : Holy Siam Srabon : Holy Siam Srabon
  5. mdmohaiminul77@gmail.com : Mohaiminul Islam : Mohaiminul Islam
  6. ranadbf@gmail.com : Rahim Rana : Rahim Rana
  7. rifanahmed83@gmail.com : Rifan Ahmed : Rifan Ahmed
  8. newsrobiraj@gmail.com : Robiul Islam : Robiul Islam
ক্ষুধার তাড়নায় হাসপাতাল ছাড়তে চান না শতবর্ষী বৃদ্ধা সখিনা বেগম - Nagorik Vabna
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশব্যাপী প্রচার ও প্রসারের লক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা সিভি পাঠান info.nagorikvabna@gmail.com অথবা হটলাইন 09602111973-এ ফোন করুন।

ক্ষুধার তাড়নায় হাসপাতাল ছাড়তে চান না শতবর্ষী বৃদ্ধা সখিনা বেগম

  • সর্বশেষ পরিমার্জন : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২০১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ সিরাজুল ইসলাম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ধেকে বাড়ি যেতে চান না শতবর্ষী বৃদ্ধা সখিনা বেগম। তেমন কোনো জটিল রোগ-বালাই নাই। তারপরও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছেন। তবে তার অপরাধ তিনি নাকি প্রচুর খাবার খান, তার প্রচুর ক্ষুধা! সেই সঙ্গে প্রস্রাব-পায়খানা করে কাপড়-চোপড় নোংরা করে ফেলেন।‘হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলেও তিনি বাড়ি ফিরে যেতে চান না। তিনি নাকি তার ছেলে-পুত্রবধূদের কাছে আপদ। তাই সেখানে ফিরে যেতে চান না। হাসপাতালে থাকলে অন্তত ৩ বেলা পেট ভরে খাওয়া-থাকা যায়। কিন্তু আমরা তো অযথা কাউকে এভাবে বেশিদিন হাসপাতালে রাখতে পারি না।’কয়েক দিনের অভিজ্ঞতায় কথাগুলো বলছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মৃদুলা রানী বিশ্বাস। বুধবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, বৃদ্ধা সখিনা বেগম গত ২০ জানুয়ারি সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে নিয়ে আসা মেয়ে লাইলি বেগমও (৫০) একই সমস্যা দেখিয়ে মায়ের সঙ্গে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষ কোনো অসুখ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ছাড়পত্র দিলেও তারা হাসপাতাল ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না।

আলাপকালে লাইলি বেগম বলেন, তার বাবা মৃত ওমেদ প্রামাণিক। বাড়ি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নিলু শেখের পাড়ায়। তারা চার ভাই ও দুই বোন। তারও নিজস্ব বাড়িঘর নাই। পাশের নছর উদ্দিন সরদারপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তার সংসারেও খুব অভাব।

তিনি বলেন, আমার বৃদ্ধা মাকে আমার ভাই ও তাদের স্ত্রীরা আপদ মনে করে। ঠিকমতো খেতে-পরতে দেয় না। যত্ন করে না। তার অসুস্থতার খবর পেয়ে আমি গিয়ে ছোট ভাইয়ের বাড়ি থেকে মাকে সঙ্গে করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে আমরা মা-মেয়ে অন্তত তিনবেলা খাবার পাচ্ছি। মা ঠিকমতো চোখে দেখে না। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে এখানে একটু নিরাপদ জায়গায় আছি। তাই এখান থেকে আমার মা যেতে চাচ্ছেন না। তাছাড়া আমার ভাই কিংবা তাদের পরিবারের অন্য কেউ এখনো হাসপাতালে একটু দেখতেও আসেনি। এখন আমাদের জোর করে যেতে বললে রাস্তার ধারে গিয়ে আশ্রয় নেয়া ছাড়া উপায় নাই।

এ সময় তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা পারলে আমার ভাইদের বলে আমার মাকে এসে নিয়ে যেতে বলেন।বাড়িতে কেন যাবেন না? জিজ্ঞেস করলে বৃদ্ধা সখিনা বেগম বলেন, রশিদের (ছোট ছেলে) বউ আমারে মারে। চুল ধইরা টানে। আমি আর ওহানে যামু না। ওরা কেউই আমারে দেখবার পারে না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বৃদ্ধার ছোট ছেলে আ. রশিদ মোবাইল ফোনে বলেন, আমি ফরিদপুরে একটি কারখানায় কাজ করি। বাড়িতে মায়ের জন্য হাইকমোড স্থাপনসহ সব ধরনের ভালো ব্যবস্থা করেছি। আমি কাজের জন্য ঠিকমতো বাড়িতে থাকতে পারি না। আমার স্ত্রীই মায়ের যত্ন করে। হয়তো কখনো কখনো একটু বিরক্ত হলেও হতে পারে; কিন্তু মাকে মারার কথা আমি বিশ্বাস করি না। তার বড়বোনের অভিযোগ ঠিক নয়।তিনি বলেন, আমার অন্য বোন ও এক ভাই হাসপাতালে মাকে আনতে গেলেও সে আসতে দেয়নি। তবে তিনি দুই-একদিনের মধ্যে ছুটিতে এসে মাকে বাড়ি নিয়ে আসবেন বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিতাই কুমার জানান, আমাদের তো একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে চলতে হয়। অসুস্থ না থাকলে আমরা ওই মা-মেয়েকে বেশিদিন হাসপাতালে রাখতে পারি না। আমরা মানবিক দৃষ্টিতে দেখলেও তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

আরো সংবাদ পড়ুন

নাগরিক ভাবনা লাইব্রেরী

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31