ঐতিহ্য হারাতে বসেছে রাণীশংকৈল গোরক্ষনাথ মন্দির - Nagorik Vabna
  1. info.nagorikvabna@gmail.com : Rifan Ahmed : Rifan Ahmed
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. holysiamsrabon@gmail.com : Holy Siam Srabon : Holy Siam Srabon
  4. mdmohaiminul77@gmail.com : Mohaiminul Islam : Mohaiminul Islam
  5. ranadbf@gmail.com : rana :
  6. rifanahmed83@gmail.com : Rifan Ahmed : Rifan Ahmed
  7. newsrobiraj@gmail.com : Robiul Islam : Robiul Islam
ঐতিহ্য হারাতে বসেছে রাণীশংকৈল গোরক্ষনাথ মন্দির - Nagorik Vabna
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা:
দেশব্যাপী প্রচার ও প্রসারের লক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা সিভি পাঠান info.nagorikvabna@gmail.com অথবা হটলাইন 09602111973-এ ফোন করুন।

ঐতিহ্য হারাতে বসেছে রাণীশংকৈল গোরক্ষনাথ মন্দির

  • সর্বশেষ পরিমার্জন : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ আল নোমান, রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভাবে ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার প্রাচীন গোরকই আশ্রম,দুর্গা ও শিব মন্দির। দায়িত্বে থাকা লোকজনের অবহেলার কারণে মন্দিরটির ভিতরে এখন গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ।

শুধু সপ্তাহ ব্যাপী আয়োজিত মেলার সময় কদর বাড়ে মন্দিরটির। অন্য সময়ে খোঁজ খবর রাখেন না উপজেলা প্রশাসনের লোকজন কিংবা মন্দির পরিচালনা কমিটির কেউই।

স্থানীয়রা বলছেন,দীর্ঘদিন ধরে দেখছি এখানে মেলা হয়,তবে গোরক্ষনাথ মন্দিরের তেমন উন্নয়ন হয় না।

এবছরে ১২ই মার্চ মেলা শুরু হয়ে ১৬ই মার্চ শেষ হয়েছে। এবারে কোভিড-১৯ এর কারণে মেলা খুব স্বল্প করে আয়োজন হলেও মেলায় বিভিন্ন জেলার মানুষের ঢল নেমেছিল।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরে নেকমরদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে গোরকই গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন মন্দিরটি। মন্দিরটির নির্মাণ কবে হয়েছিল এবং মন্দিরটির আসল মালিকানা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা নেই কারোই।

তবে মন্দিরের গেটে লেখা বর্ণনায় দেখা গেছে, গুপ্ত যুগ থেকে সেন যুগের মধ্যেই কুপ ও মন্দির নির্মিত হয়েছিল এবং নাথ সহজিয়া মতের গুরু গোরাক্ষ নাথের নামানুসারে কুপ ও স্থানের নাম হয়েছে গোরকই। গোরকই ফকিরি স্নান বা বারুণীর মেলা হিসেবে আজও সমান ভাবে সমাদৃত। এতদ্ব অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি একটি তীর্থ স্থান। ফাল্গুনের শিব চতুর্দশী তিথিতে পুণ্য স্নানের জন্য আগমন ঘটে অসংখ্য পূণ্যার্থীদের।

স্থানীয়দের সাথে বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা গোরক্ষনাথ নামে এক ঠাকুর এই এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার নামানুসারে গ্রামের ও মন্দিরের নামকরণ হয় গোরকই। তবে মন্দিরের দেখাশুনা গোরক্ষনাথ ঠাকুর করলেও মন্দির তিনিই নির্মাণ করেন নি, রাতারাতি দেবতারা পাথর দিয়ে মন্দিরটি নির্মাণ করেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। যদিও এ তথ্যগুলোর সঠিক দলিলাদি নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরটি ছাড়াও এখানে রয়েছে নাথ আশ্রম। ৩টি শিব মন্দির, ১টি কালি মন্দির। গোরক্ষনাথ মন্দির চত্বরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। তার পিছনেই সেই আকর্ষণী কুপ। পাথরের তৈরি একটি চৌবাচ্চার মাঝে ওই কুপের অবস্থান। কুপটি বড় বড় কালো পাথরের খন্ড দ্বারা নির্মিত। কুপের একেবারে তলা পর্যন্ত ওই পাথর দিয়ে বাধানো। কুপের পূর্ব দিকে একটি দরজা এবং পশ্চিম দিকে একটি দরজা। এ দুটো দরজা দিয়ে স্নানের জন্য প্রবেশ করে পুর্ণার্থীরা।

এছাড়াও মন্দিরের দক্ষিণ পার্শ্বে দুজন পূজারীর সমাধি রয়েছে। ঠাকুর গৌরক্ষনাথের মৃত্যুর পর ওই দুজন পূজারী মন্দিরের দেখাশুনা করাকালীন তাদের মৃত্যু হলে মন্দিরের পার্শ্বেই তাদের সমাধি স্থাপন করা হয়। এ দুজন পূজারীর নামও সঠিক জানা নেই কারো।

মেলা পরিচালনা কমিটি জানায়, প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের আমাবস্যায় এই মন্দিরে ৭ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও মন্দির পরিচালনা কমিটি। মেলার সময় এ কুপের পানিতে স্নান করতে আসে দেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তরা।

বিভিন্ন মানত করে পরিবার পরিজন সহ আসেন এই মন্দিরে। পূজা ও স্নান শেষে আবার পুনরায় ফিরে যান বাড়ীতে। তবে অনেকের আশা পূরণ হলে মন্দিরে এসে পুনরায় পূজা এবং মানত করা ছাগল, হাস, টাকা সহ নানা জিনিসপত্র দিয়ে যান।

এই এলাকার তরণী বর্ম্মন জানান, হাজার হাজার নারী পুরুষ স্নান করার পরও এ কুপের পানি এক ইঞ্চিও ও কমে না। যা কুপের বৈশিষ্ট্য মনে করে পূর্ণাথীরা। মন্দিরটিতে গ্রানাইট পাথরের ব্যবহার করা হয়েছে। যে পাথর বর্তমানে দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। কথিত আছে, গৌরক্ষনাথ ছিলেন নাথপন্থীদের ধর্মীয় নেতা খীননাথের শিষ্য।

মন্দিরটির সামনের দোকানদার সত্যজিৎ রায় জানায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মন্দির দর্শনার্থীরা এসে মন্দিরের বেহাল দশা দেখে চলে যান। বসার,খাওয়ার স্থান নেই, এমনকি নেই যাতায়াতের ভাল একটি রাস্তা। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় আসতেই মানুষ ভয় পাই। মন্দিরের পাশের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দশ বছরে এলাকার দুই সাংসদ যাতায়াতের জন্য রাস্তা পাকা করণের অঙ্গীকার করে গেলেও এ পর্যন্ত একটি ইটও বরাদ্দ দেননি তারা। উপজেলা প্রশাসন প্রতি বছর একটি সৌর বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেয়। কিছুদিন পরই তা চুরি হয়ে যায়।

মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পসিন চন্দ্র জানান, মন্দিরটি ২৪ ঘণ্টা দেখাশুনা করার জন্য একজন পূজারী ছিল। তিনি কয়েকদিন আগে চলে গেছেন। খুব শীঘ্রই মন্দির পরিষ্কার পরিছন্ন এবং দেখাশুনা করার জন্য একজন পূজারী নিয়োগ দেয়া হবে। তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মন্দির দর্শনে আসা মানুষ এবং ভক্তদের জন্য বসার স্থান, খাওয়ার জন্য ভালো হোটেল এবং আবাসিক ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মন্দিরের নিজস্ব মালিকানায় প্রায় ২৫ বিঘা জমি, একটি আম ও জাম বাগান এবং একটি বড় পুকুর রয়েছে। যা প্রায় দেড় লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। মেলায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় আসে। দুটো আয় দিয়ে চলতি বছরই সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ মন্দিরে নানা উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তবে মন্দিরের সম্পত্তি অনেকেই অবৈধভাবে দখল করে আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মন্দির পরিচালনা কমিটি কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবগত করলেও সেদিকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ বলেন, মেলা পরিচালনা কমিটি যাবতীয় দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছে মন্দিরের। তাছাড়া তাদের দেয়া চাহিদা অনুযায়ী মন্দিরের উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়েছে।




আরো সংবাদ পড়ুন







নাগরিক ভাবনা লাইব্রেরী

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930