1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা শীঘ্রই 09602111973 অথবা 01819-242905 নাম্বারে যোগাযোগ করুন।

ঝিনাইদহের এমপি আনারের হত্যা পরিকল্পনায় যশোরের সাবেক দুই এমপি!

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: রবিবার, ২ জুন, ২০২৪
  • ৪৪ বার পঠিত
জেমস আব্দুর রহিম রানা:  ভারতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের উত্থান-পতন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার শৈশব, ছাত্রকাল, রাজনীতিতে প্রবেশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে কোটিপতি বনে যাওয়া, দেশের ঐতিহ্যবাহি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে টানা ৩ বার এমপি হওয়া এবং সর্বশেষ লৌমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর-সবই যেন রহস্যঘেরা। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এই এমপি হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে এখন পর্যন্ত সন্দেহের শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন তারই বন্ধু আমেরিকায় নাগরিকত্ব পাওয়া আক্তারুজ্জামান শাহীন। এই ঘটনায় গ্রেফতার হ‌ওয়া ৫ কোটি টাকার চুক্তিতে হত্যা মিশনের প্রধান খুলনার ডুমুরিয়ার চরমপন্থী থেকে পেশাদার কিলার হয়ে ওঠা শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমান রিমাণ্ডে রয়েছেন। গ্রেফতার তানভীর ও আলোচিত তরুণী সেলেস্তি রহমানও ৫দিনের রিমাণ্ডে আছেন।
এরইমধ্যে দেশের শীর্ষ একটি দৈনিক পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা পরিকল্পনায় বৃহত্তর যশোরের সাবেক দুই এমপি জড়িত! কিন্তু তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে।
এরবাইরে কলকাতা সিআইডির হাতে গ্রেফতার রয়েছেন কসাই জিহাদ। অন্যদিকে, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন সিয়াম হোসেন নামে একজন গ্রেফতার হয়েছেন নেপালে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) নেপাল পুলিশ তাকে আটক করে বলে কাঠমান্ডুর একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সিয়াম এমপি আজীমের লাশ গুমে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। তিনি আক্তারুজ্জামান শাহীনের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
এতসব কিছুর পরও এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের উত্থান-পতন নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের মানুষ। নানা প্রশ্ন উঁকি মারছে। যদিও এসব প্রশ্নের ধারে কাছেও নেই তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
অনেকগুলো প্রশ্নের ভেতর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা-তা হলো এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার ১২ মে বন্ধুর মেয়ের বিয়ে ও চিকিৎসার কথা বলে দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান। তিনি ব্যক্তিগত সফরে গেলেও তার একজন হেল্পার থাকা উচিত ছিল কিন্তু কেউ-ই ছিল না। তিনি টানা ৩ বারের এমপি। তাও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। তার এই সফরের খবর কী জানতো না ঝিনাইদহের আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ? তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেয়া হয়-তিনি মাদক-অস্ত্র ও সোনা চোরাকারবারী সিণ্ডিকেট প্রধান ছিলেন। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। তাহলে তো তার দিকে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারী থাকা উচিত ছিল।
অপরদিকে, ভারতে প্রবেশের সময় তিনি যেহেতু সংসদ সদস্য সেহেতু নিশ্চয় লাল পাসপোর্ট দেখিয়েছেন। ওই সময় ভারতে লোকসভা নির্বাচন চলছিল। সেকারণে হলেও বাংলাদেশের একজন এমপির ভারতে প্রবেশের খবর সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অজানা থাকার কথা না। হিসাব কিন্তু তাই বলে। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তার বিষয়ে কী উভয় দেশের গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল নাকি বিশেষ কোনো কারণে তিনি ছিলেন মুকুটহীণ সম্রাট ?
যদি সত্যিই এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার খুন হয়ে থাকেন, তাহলে এর দায় উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর কী বর্তায় না-এ প্রশ্ন আজ প্রায় সর্বমহলের।
এদিকে, ঢাকার ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ প্রায়ই গণমাধ্যমে তদন্তের আপডেট তথ্য দিচ্ছেন। কখনো বলছেন-এমপি আনারকে হানিট্রাপে ফেলে খুন করা হয়েছে। এ কাজে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এমপি আনারের বন্ধু আমেরিকান প্রবাসী আক্তারুজ্জামান শাহীন তার গার্লফ্রেন্ড তরুণী সেলেস্তি রহমানকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বলা হচ্ছে এমপি আনারের ব্যবসায়ীক পার্টনার ছিলেন তার বাল্যবন্ধু শাহীন। কোটচাঁদপুরে শাহীনের রহস্যঘেরা রিসোর্টে এমপি আনারসহ অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া ছিল। তাহলে জেনে বুঝে এমপি আনার তার বন্ধু ও ব্যবসায়ীক পার্টনার আক্তারুজ্জামান শাহীনের গার্লফ্রেন্ড তরুণী সেলেস্তি রহমানের টোপে সাড়া দেন কীভাবে ? বলাই তো হচ্ছে তাদের হুণ্ডির ৫০ কোটি ও প্রায় দু’শ কোটি টাকার দুটি সোনার চালান আত্মসাত করেন এমপি আনার। এনিয়ে তাদের মধ্যে মাস ছয়েক ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এসব বিরোধ মেটাতে এমপি আনার কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানেই তাকে খুন করে ৮০ টুকরো করা হয়। চামড়া ছিলে হাঁড়-মাংস আলাদা করে খুনিরা। মাংসের কিমা করে ফ্লাশ করা হয়েছে। আবার কখনো বলা হচ্ছে-কসাই জিহাদ মাংস ছোট পাল্লায় ওজন করেছিল। প্রতি টুকরো মাংসের ওজন ছিল ৭০ থেকে ১০০ গ্রাম। তাহলে ৮০ টুকরোতে হয় মাত্র ৮ কেজি। হাঁড়-মাথার ওজন কত হতে পারে ? তাহলে কী এমপি আনারের ওজন ৩০-৩৫ কেজি ছিল ?
এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আম-জনতার মনে। সেই সাথে যশোরের সাবেক দুই এমপি’ আনার হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত-এমনটিই খবর দিয়েছে জাতীয় শীর্ষ দৈনিক ইত্তেফাক। পত্রিকাটির ওপর মানুষের আস্থা অনেক। ফেইক বা গুজব ছড়ানোর পত্রিকা ইত্তেফাক না-এ কথা এক বাক্যে সবাই স্বীকার করেন। তাহলে হত্যা পরিকল্পনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন ?
তদন্তভার পাওয়া ঢাকা ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ এ-ও বলছেন-এমপি আনারকে আগেও দু’দফা হত্যার চেষ্টা করেছিল খুনিরা কিন্তু বাংলাদেশে সাহস পায়নি। এ তথ্য গ্রেফতার হওয়া শিমুল ভূঁইয়া দিলো নাকি গোয়েন্দারা জানতেন? বিষয়টি নিয়ে রীতিমত ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যদি শিমুল ভূঁইয়ার দেয়া তথ্য হয়, তাহলে সত্যতা যাচাইয়ের দরকার আছে। আর যদি গোয়েন্দা তথ্য হয়, তাহলে এমপি আনারকে চলাফেরায় কেন সতর্ক করা হয়নি-এমন প্রশ্নও উঠেছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- আনোয়ারুল আজীম আনার ব্যক্তিগতভাবে কী করতেন, তা জানার বিষয় না। তার জনপ্রিয়তা দেখে দল মনোনয়ন দিয়েছিল।
দেশের ঐতিহ্যবাহি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এ দলে যেকেউ যোগদান করতে পারে-এ প্রশ্ন খোদ আওয়ামী লীগ থেকেই উঠছে। জনপ্রিয়তা তো অনেক সুইপারেরও আছে। এমপি আনার ভাল ফুটবল খেলতেন। তিনি কলেজ শিক্ষকদের থাপ্পর মেরে গণমাধ্যমে শিরোণাম হয়েছেন। আবার অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য প্রশংসাও পেয়েছেন।
তিনি ছাত্রকালে ২৩টি মোটরসাইকেল নিয়ে চোরাকারবারীতে জড়িত ছিলেন। এরশাদের জাতীয় পার্টিতে তার রাজনীতির হাতে খড়ি। রাজনৈতিক প্রভাবে তার চোরকারবারী বিস্তৃত হয়েছে। পরে বিএনপির রাজনীতিও করেছেন এই নেতা। প্রয়াত এমপি মান্নানের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার প্রবেশ। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সামান্য চোরাকারবারী থেকে অস্ত্র-মাদক ও সোনা পাচার সিণ্ডিকেট প্রধান হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থীদের যেমন আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তেমনি ছড়ি ঘুরানো থেকে শুরু করে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে অন্তত ২২টি মামলার আসামি ছিলেন আনোয়ারুল আজীম আনার। এখানেই শেষ না, নৌকার টিকিটে তিনি টানা ৩ বার এমপি হয়ে নন্দিত হয়েছেন।
এসব জানে না কে ? তারপরও যদি আওয়ামী লীগের সেকেন্ড ইন কমাণ্ড থেকে জবাব আসে, সে কী করতো, তা বড় কথা না। তার জনপ্রিয়তা দেখে দল মনোনয়ন দিয়েছিল। তাহলে আওয়ামী ঘরানার নেতাকর্মীদের বুকে রক্তক্ষরণ হয়-এমনটিই বলছেন অনেকে।
পাঠকদের জন্য ২৪ মে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হু-বহু তুলে ধরা হলো।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তার উত্থান, স্বর্ণ চোরাচালান, খুনখারাবিসহ নানা অপরাধের বিষয় উঠে আসছে। রহস্য দেখা দিয়েছে তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে। উঠছে নানা প্রশ্নও। তবে সব প্রশ্নের ভিড়ে একটি বিষয় সবাই জানতে চায়। কে এই এমপি আনার, তাকে ঘিরে এত আলোচনা কেন? দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বহারাদের রাজত্ব ছিল। সেই রাজত্বের মধ্যে এমপি আনারের উত্থান। তার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আকতারুজ্জামান শাহীন। আর হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নকারী শিমুল ভুঁইয়া ওরফে আমান উল্লাহ। এলাকাবাসীর কাছ থেকে এবং স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমপি আনার ছাত্রজীবন থেকে ২৩টা মোটরসাইকেল নিয়ে চলতেন। নিজে চালাতেন লাল রঙের একটি মোটরসাইকেল। অন্য ২২টি মোটরসাইকেলে চোরাচালানের সামগ্রী বহন করত তার নিয়োজিত কর্মীরা। তারা ছিল বেতনভুক্ত। এক জন আনারের পেছনে বসে থাকত। তার সঙ্গে চোরাচালানির মালামাল থাকত। তার প্রতিটি গাড়িতে নম্বর থাকত। এই নম্বর দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ছেড়ে দিত। কারণ আনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে টাকা দিতেন।
আনোয়ারুল আজীম আনারের পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মধুগঞ্জ বাজার এলাকায়। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য। টানা তিন বার আওয়ামী লীগ থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। এলাকাবাসী জানান, এক সময়ের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থিদের নিয়ন্ত্রণ করতেন আনার। অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য পাচারের হোতা হিসেবেও পুলিশের খাতায় নাম ছিল তার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও চরমপন্থিদের গডফাদার হিসেবে পরিচিতি পান। আনারের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য ও স্বর্ণ চোরাচালান, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চরমপন্থিদের আশ্রয় ও হত্যাসহ ২২টি মামলা ছিল। এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাদের স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানির টাকার ভাগ অনেকে পেতেন। যাদের বাবা ছিলেন শ্রমিক ও দিনমজুর এখন তারা হাজার কোটি টাকার মালিক। তারা দলীয় নেতা সেজে রয়েছেন। অনেকেই স্বীকৃত রাজাকারের সন্তান।
১৯৮৪ সালে এমপি আনার এসএসসি পাশ করেছেন। ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পাশ করেন। আর সরকারি মাহতাবউদ্দিন কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেন ১৯৮৮ সালে। এইচ এম এরশাদের সময় স্বর্ণ চোরাচালান ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে যান। মাইক্রোবাসে করে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে স্বর্ণ নিয়ে যেতেন সীমান্তবর্তী এলাকায় আর মাদক নিয়ে আসতেন ঢাকায়। আনারের এলাকায় তারই একক আধিপত্য ছিল। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমে কালিগঞ্জ পৌর মেম্বার ছিলেন। দুই বার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ভারতের বাগদা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বাঘাভাঙ্গা সীমান্তপথে চোরাচালান করতেন তিনি। ঐ সময় কালীগঞ্জ থানাসহ মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানা পুলিশের সঙ্গে মাসিক চুক্তিতে ‘টোকেন’ তৈরি করে তার বাহিনী। ঐ টোকেন দেখালেই প্রশাসনের লোকজন মাদকদ্রব্য বহনকারী গাড়ি ছেড়ে দিত। এই টোকেন বাণিজ্য থেকে আনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এই মাদক কারবারের মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিকও বনে যান। ২০০৯ সালে এমপি আনার উপজেলার চেয়ারম্যান হন। এরপর ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে এমপি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির আগে তিনি এরশাদের জাপা করতেন। এরপর বিএনপির রাজনীতি করতেন।
চরমপন্থি লাল দলের প্রধান বলে পরিচিত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ডা. টুটুলকে ২০০৯ সালে র‍্যাব তুলে নিয়ে যায়। নেওয়ার পরদিন তার লাশ পাওয়া যায় নওগাঁওয়ের গোদাগাড়ি এলাকায়। ঐ সময় তার পরিবার সন্দেহ করেছিল, এমপি আনার লাল দলের প্রধান ডা. টুটুলকে র‍্যাবের হাতে তুলে দিতে সহযোগিতা করেছিলেন। নিহত টুটুল হলেন এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শাহীনের আপন চাচাতো ভাই। আর এমপি আনার হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নকারী শিমুল ভূঁইয়ার আপন ভগ্নীপতি। এই কারণে শাহীন ও শিমুল আগে থেকেই এমপি আনারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। শিমুলকে র‍্যাব দিয়েও মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন এমপি আনার। সে পালিয়ে নিজেকে বাঁচায়। শাহীন ও শিমুলের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল এমপি আনারের ওপর। এরপর ৫০০ কোটি টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে মাফিয়া চক্র ও শাহীনের সঙ্গে। কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী ও যশোরের দুইজন সাবেক এমপি এই মাফিয়া চক্রে রয়েছেন। তবে এককভাবে সব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এমপি আনার। মাফিয়ারা শাহীনকে দিয়ে তার ফুপাতো ভাই শিমুল ভুঁইয়াকে কাজে লাগায় এমপি আনার হত্যাকাণ্ড ঘটাতে। এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডা. টুটুল হত্যাকাণ্ডও একটি কারণ।
ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে পুলিশ একবার এমপি আনারকে আটক করলেও তার ক্যাডাররা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। ঐ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে যৌথ বাহিনীর অপারেশনের সময় আত্মগোপনে ছিলেন আনার। ১৯৯৬ সালে আনার বিএনপি থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেন। মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানের কারবারের পাশাপাশি কালীগঞ্জ পৌরসভার এক কমিশনারের হাত ধরে অস্ত্র চোরাকারবারেও জড়ান তিনি। তার অবৈধ অস্ত্রের চালান চরমপন্থি ক্যাডার সামসেল ওরফে রবিনের কাছে বিক্রি হতো। ২০১২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিতোষ, আনারসহ বেশ কয়েক জন মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এ মামলায় আনারকে গ্রেফতারে ২০০৯ সালে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন চুয়াডাঙ্গার বিশেষ আদালত। এর ১০ দিন পর ঐ বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতারের জন্য নিশ্চিন্তপুর গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ধীরে ধীরে আনারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো কমে যেতে শুরু করে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হলে ক্ষমতার দাপটে বেশিরভাগ মামলা থেকে নিজেকে মুক্ত করেন আনার। অনেকেই বলে থাকেন ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত মাফিয়াদের কাছে যত টাকা, তারা নিজেরাই বাজেট দিতে পারে। দেশ-বিদেশে তাদের রয়েছে বিপুল সম্পদ।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...