1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :




যশোরের ৬টি আসনে আওয়ামী লীগের মিলন-মোহিতসহ ১৮ জনের মনোনয়ন বাতিল

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: রবিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১১৮ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়নপত্র বাছাই চলছে। যশোরের ৬টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই করা হয়। এতে যশোর-৩ (সদর) আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহিত কুমার নাথসহ ৬টি আসনে আঠারো জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রোববার দিনভোর এ কার্যক্রম উপস্থিত থেকে তদারকি করেছেন রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার।

বাছাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আনিছুর রহমান জানান, যশোরের ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৪৬জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাই করে ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান, যশোর-৩ (সদর) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার অধিকারী, যশোর -৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. খান টিপু সুলতানের পুত্র হুমায়ুন সুলতান সাদাব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন লাভলু ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান বারী ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী সংসদ নির্বাচন করতে সদ্য পদত্যাগকারী যশোর জেলা পরিষদের ৮ নম্বর কেশবপুর ওয়ার্ডের সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুল ইসলাম ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম। এসকল আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনের শর্তানুযায়ী জমা দেয়া ১% তালিকায় সমস্যা দেখিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী সংসদ নির্বাচন করতে সদ্য পদত্যাগকারী যশোর জেলা পরিষদের ৮ নম্বর কেশবপুর ওয়ার্ডের সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুল ইসলাম আয়করের ফরম-১০-বি জমা দেননি-এমন তথ্য দিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া মনোনয়ন বাতিল তালিকায় অন্য যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, নির্বাচন কমিশনের শর্তানুযায়ী জমা দেয়া ১% তালিকায় সমস্যা দেখিয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল হাসান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সোহরাব হোসেন ও জাতীয় পার্টির আক্তারুজ্জামান। এদেরমধ্যে জাতীয় পার্টির আক্তারুজ্জামান সিআইবির ঋণ খেলাপীর জামিনদার। টিন নম্বর না থাকা এবং রিটার্ন দাখিল না করায় যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসন থেকে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বিএনএফ এর মোঃ শামসুল হকের । যশোর-৩ (সদর) আসনে হলফনামা ও আয়করের তথ্যের গরমিল থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান, তৃণমূল বিএনপির কামরুজ্জামান ও জাকের পার্টির মহিবুল ইসলাম এর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বাতিল হয়েছে এই আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ নুরুজ্জামান’র মনোনয়নপত্র। অপরদিকে সমর্থনকারী অন্য আসনের ভোটার হওয়ায় জাকের পার্টির হাবিবুর রহমান এর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য আজ যাচাই বাছাই হওয়া যশোরের ৬টি আসনে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৪৬জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তারা হলেন, যশোর-১ (শার্শা) আসনে আওয়ামী লীগের ৪ জনসহ ছয়জন রয়েছেন । তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল হাসান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সোহরাব হোসেন, জাকের পার্টির সবুর খান ও জাতীয় পার্টির আক্তারুজ্জামান।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের ৩ জনসহ ৫ জন। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী, আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য তোফায়েল আহদেরে একমাত্র জামাতা, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ঢাকা স্কয়ার হসপিটালের সিনিয়র কনসালটেন্ট, ইন্টারভেশনাল কার্ডিওলজি ডাক্তার তৌহিদুজ্জামান তুহিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবিবুর রহমান। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল আওয়াল, জাকের পার্টির সাফারুজ্জামান নিজ নিজ দলের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের ৩ জনসহ ১০ জন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ, স্বতন্ত্রপ্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ।

এছাড়া নিজ নিজ দলের পক্ষে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মারুফ হাসান কাজল, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান, জাতীয় পার্টির এড. মাহবুব আলম বাচ্চু, তৃণমূল বিএনপির কামরুজ্জামান, জাকের পার্টির মহিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের শেখ নুরুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলসের এ্যাড. সুমন কুমার রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) থেকে মনোনয়নপত্র জমা করেন আওয়ামী লীগের ৩ জনসহ আটজন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার অধিকারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য রনজিৎ কুমার রায়, তৃণমূল বিএনপির অব: লে: ক: এম শাব্বির আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামি ঐক্যজোটের মোহাম্মদ ইইনুস আলী, জাকের পার্টির লিটন মোল্লা ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হক।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের ৫ জনসহ ৯ জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্য, স্বতন্ত্রপ্রার্থী কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য, যশোর জেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি ও সিটি প্লাজার চেয়ারম্যান আলহাজ এস এম ইয়াকুব আলী, স্বতন্ত্রপ্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. খান টিপু সুলতানের পুত্র হুমায়ুন সুলতান সাদাব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন লাভলু ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান বারী। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দেন তৃণমূল বিএনপির আবু নসর মোহাম্মদ মোস্তফা বনি, জাকের পার্টির হাবিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা নুরুল্লাহ আব্বাসী ও জাতীয় পার্টির এমএ হালিম।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের ৪ নেতাসহ ৬ জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি শাহীন চাকলাদার, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সংসদ নির্বাচন করতে সদ্য পদত্যাগকারী যশোর জেলা পরিষদের ৮ নম্বর কেশবপুর ওয়ার্ডের সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুল ইসলাম, স্বতন্ত্রপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন। এছাড়া জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান ও জাতীয় পার্টির জিএম হাসান মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

ইসি ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা যাচাই-বাছাই করবেন। েএরই ধারাবহিকতায় আজ (৩ ডিসেম্বর) রোববার ছিল যশোরের ৬টি আসনের প্রার্থীদের জমাকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। তবে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি হবে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামী ১৭ পর্যন্ত সময় থাকবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের।

এছাড়া, প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। এরপর প্রার্থীরা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। সবশেষ আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, দেশে ইসি নিবন্ধিত দল রয়েছে ৪৪টি। ইসির তথ্যমতে, নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে ২৯টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। যদিও এর আগে অন্তত ২৬টি দল ইসিতে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছিল।

নির্বাচনে আসছে না নিবন্ধিত যেসব দল তাদেরমধ্যে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনের থাকা বিএনপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস, সিপিবি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বা এনডিএম, বাংলাদেশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বাংলাদেশ জাসদ, জেএসডি (রব), বাসদ, বিজেপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন), গণফোরাম এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ (গাভী) এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...