1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণা :
সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা শীঘ্রই 09602111973 অথবা 01819-242905 নাম্বারে যোগাযোগ করুন।

খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহকের থেকে দালাল বেশি!

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৪৬ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা,খুলনা ব্যুরো : খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্রদের ব্যাপারে বারবার পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও এদের উৎপাত যেন থেকেই যাচ্ছে চরমে।

এ ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের অভিযোগ থাকলেও এর কোন প্রতিকার হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসটিতে সাধারণ গ্রাহকদের থেকে ও দালালদের দৌরাত্ব অনেক বেশি।

রাত পোহালেই অফিস খোলার সাথে সাথে স্থানীয় দালাল চক্ররা এসে বিভিন্ন কৌশলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অফিসের কতিপয় কিছু অফিসারদের সাথে গোপনে আঁতাত করে বিভিন্ন কায়দায় বহিরাগত গ্রাহকদের স্বল্প সময়ে নির্ঝঞ্ঝাটে ঝামেলা মুক্তভাবে পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

এক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসের ডিউটিরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রয়েছে নিরব ভূমিকায়।

তবে এই দালাল চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ভিসা এজেন্সি অফিসের কর্মকর্তাদের সখ্যতা রয়েছে বলে সত্যতার প্রমাণ মিলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এমন একজন গ্রাহক বলেন গত তিন মাস আগে আমি এই দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে দুটি পাসপোর্ট করার জন্য প্রতারক মহাসিন দালালের কথা মতো প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ও দুই কিস্তিতে মোট ১৮ হাজার টাকা দিয়ে ১০ বছর মেয়াদ এর দুটি পাসপোর্ট করতে দিয়ে তিন মাস যাবৎ দালালদের পিছনে ঘুরলেও আজ পর্যন্ত আমার এবং আমার স্ত্রীর ছবি তোলার কাজটি এখনো শেষ করতে পারেনি।

ভুক্তভোগী গ্রাহক আরো বলেন তিন মাস যাবৎ ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন পাসপোর্ট অফিসটিতে ঘুরে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে এখানকার দালাল চক্রের হাত কত লম্বা ও শক্তিশালী।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত এখানে ঘটলেও পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তারা জেনেও নাজানার অজুহাত তাদের।  তবে বেশ কিছু গ্রাহকদের অভিযোগসূত্রে এখানকার উর্ধশতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরাবর দালাল চক্রের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আমার বোধগম্য হয়না এখন বর্তমান যুগে সবাই সচেতন থাকা সত্ত্বেও কিভাবে দালাল চক্রের হাতে পড়ে প্রতারিত হয়। কারণ প্রয়োজনীয় সকল পেপারস অনলাইনে সাবমিট করে এখানে এসে নিয়ম অনুযায়ী ছবি তুলারপর আর কিছু বাকি থাকে বলে আমার মনে হয় না।

তিনি আরো বলেন প্রতিটি সরকারি অফিসে কিছু না কিছু দালালের আনাগোনা থাকে। তবে এখানকার বিষয়টি একটু অন্যরকম।

কারণ এখানকার স্থানীয় বহিরাগত কতিপয় কিছু ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বেশ কিছুদিন হলো দালাল চক্রর উৎপাতের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে আমি অচিরেই ব্যবস্থা নেবো। যাতে করে একমাত্র অফিসের কর্মকর্তা এবং গ্রাহক ব্যতীত বহিরাগতরা পাসপোর্ট অফিস সীমানার মধ্যে প্রবেশ করলে এখানকার নিয়োজিত প্রশাসন দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেলেও এখানকার দালালদের কৌশল অবলম্বনের কোন অন্ত নাই। এখানকার অনেক দালালদের পোশাক পরিচ্ছদ পড়িপাটি ও ভাব কায়দা দেখে মনে হয় সে এই অফিসের কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এমন একজন ওসিয়ার রহমান দালাল গণমাধ্যমের সামনে ধরা পড়লে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি এই পাসপোর্ট অফিসের কোন পর্যায়ে কর্মরত আছেন এবং আপনার দপ্তর রেখে আপনি বাইরে ঘোরাফেরা করছেন কেনো।

দালাল ওসিয়ার রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের কথার কোন প্রতি উত্তর দিতে না পেরে তরিঘরি করে পাসপোর্ট অফিস ত্যাগ করে। পরে উল্লেখিত পাসপোর্ট অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের থেকে জানা যায় সে এলাকার প্রভাবশালী এক বড় ভাইয়ের ছাত্রছায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে এখানে গ্রাম থেকে পাসপোর্ট করতে আসা সরল সোজা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে বহু টাকা হাতিয়া নিলেও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না কেউ।

এমন ওসিয়র এর মতন দালাল চক্ররা পাসপোর্ট অফিসের ছবি তোলা কক্ষ থেকে শুরু করে ডেলিভারি স্থান পর্যন্ত সর্বত্র বিচরণ করে অনভিজ্ঞ সরল সোজা গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসটির সকল তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে আরো জানা যায় কতিপয় এই দালাল চক্রদের পিছনে থেকে ইন্দোনদাতা হিসেবে কাজ করছে এই অফিসেরই বিশেষ কিছু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখিত সকল শংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগে থেকে আচকরতে পেরে সাথে সাথে তাদের মুখোশ পাল্টিয়ে নিজেদের সৎ প্রমাণ করতে গিয়ে অভিনব কায়দায় বলছে অন্য কথা ।

এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন আমি দেড় বছর যাবৎ এই অফিসে গ্রাহকদের ছবি তোলা ও তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছি তবে এখানে কে দালাল বা কে ধান্দাবাজ তাদেরকে আমি চিনি না বা তাদের সাথে আমার কোন জোগসাজ নাই।
অথচ বাহিরে অপেক্ষমান গ্রাহক ব্যতীত লাইন ছাড়া অন্য ৪-৫ জন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ অপেক্ষমান লাইন ব্যতীত উৎকোচ দাতাদের উল্লেখিত কর্মকর্তার রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে কানে কানে দালাল চক্রের একজন কিছু বলে দিয়ে বাইরে চলে যায়। পরে জানতে পারা যায় ওই ব্যক্তি এই অফিসেরই দালাল চক্রের একজন।

আর এভাবেই বিভিন্ন কৌশলে দালাল চক্রদের আয়ত্তে চলছে খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...