1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :




কথায় পাক্কা ঈমানদার, ভাবনায় বিষের ছোবল!

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২১০ বার পঠিত

॥ শাহীন মির্জা॥

পুজিবাদীরা, সিন্ডিকেটকারীরা যে কোন পথে অর্থ উপার্জনের জন্য দ্বৈত্য দানবের মতো আচরণ করছে। অনেকে এখন পবিত্র ব্যবসাকে হারাম উপার্জনের যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। নবী করীম (সঃ) এ সম্বন্ধে বলেছেন “সম্মুখে এমন এক সময় আসবে যখন কোন ব্যক্তি অর্থোপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল কি হারাম পন্থায় উপাজর্ন হচ্ছে এটি মোটেই ভাববেনা।
সহীহ্ বোখারী শরীফ হাদিস নং-১৯৪০, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলছেন “মিথ্যা শপথের দ্বারা পণ্য সামগ্রী বিক্রি হয়ে যায় বটে, কিন্তু এতে বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
সহীহ্ বোখারী শরীফ হাদিস নং-১৯৪৪। চেহারা, লেবাস, ইহকাল পরকালের কথার মাধুর্য দেখলে মনে হবে সৎ লোক, আল্লার অলী, বুজুরর্গ ব্যক্তি মানবের জন্য নিবেদিত প্রাণ তাহারাই কথায় পাক্কা ঈমানদার, ভাবনায় বিষের ছোবল! ব্যবসার নামে তারাই খাদ্যে ভেজাল ও নকল ঔষধ দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
শিক্ষিত হলে বড় বড় ডিগ্রী নিলেই সে আর্দশবান মহৎ হৃদয়ের অধিকারী, সৎলোক, সে উৎকৃষ্ট মানুষ এমন নিশ্চয়তা গ্যারান্টি এখন কেউ দিতে পারে না। বড়লোক হওয়ার প্রতিযোগিতার তীব্র বাসনায় আর্দশ, বিবেক, মনুষ্যত্ব, নৈতিক মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে পরকালের ভাবনা বানের জলে ভাসিয়ে স্বার্থের টানে নিজেরা এক দানব হয়ে উঠেছে। এরা ভাবে সমাজ, দেশ, মানুষ কারো প্রতিই এদের কোন দায়বদ্ধতা নেই।
মানুষের বেঁচে থাকার পাঁচটি মৌলিক উপাদানের মধ্যে খাদ্য হচ্ছে অন্যতম। অথচ জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা কি খাচ্ছি। যারা খাদ্য যোগান দিচ্ছেÑতারা ভেজাল খাবার, বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত খাবার দিচ্ছে। সাথে হালাল, হারাম, নকল, ভেজাল, অখাদ্য খেয়ে আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো জেনেশুনে অসহায় হয়ে নষ্ট করছি। মানুষ হত্যা করলে ফাঁসি হয়, মাদক মামলায় ফাঁসি হয় কিন্তু যারা খাদ্যে বিষাক্ত ও ভেজাল খাবার খাইয়ে তিলে তিলে নিঃশেষ করে জীবনের শেষ সম্ভবটুকু ভিটেমাটি বিক্রি করে চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, সেই মুনাফালোভী খাদ্য ভেজালকারী ব্যবসায়ীর কি বিচার হতে পারে?
শরীরে রোগের বাসা বাধে মূলত ভেজাল ও কেমিক্যাল যুক্ত খাবার থেকে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রধান শর্ত হচ্ছে ভেজালবিহীন কেমিক্যাল মুক্ত খাদ্য গ্রহন করা। শরীরের জন্য ভেজাল ও বিষমুক্ত খাদ্য গ্রহন অপরিহার্য। ভেজাল ও বিষমুক্ত খাদ্য মনিটরিং করার দায়িত্ব যাদের কাঁধে তারা দেখি নিরব ভূমিকা পালন করে। ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার পরিষদ আরো কতো সংগঠন এরা যদি ভেজালের প্রতি প্রতিনিয়ত সোচ্চার থাকতো তবে দেশে সব খাদ্য ও ঔষধে এত ভেজাল থাকত না। ঢাকার প্রায় হাসপাতাল গুলোর রুগির সিরিয়াল দেখলে মনে হয় বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষই রোগী। প্রতিটি মানুষ জানে ভেজাল খাদ্য মানুষের শরীরে বিভিন্ন কঠিন রোগের জন্ম দেয় জানার পরও অসহায় হয়ে ভেজাল ও বিষযুক্ত খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছি। অধিকাংশ ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে। অসৎ ব্যবসায়ীরা বিবেক, ধর্ম, মনুষ্যত্ববোধ বিসর্জন দিয়েছে। নিরবে তিলে তিলে মানুষ হত্যাকারীরা ইহকালÑপরকালের পাপ পূণ্যের, শেষ বিচারের কথা ভুলে মানব নামের দানব হয়ে শটকাটে বড়লোক হওয়ার তীব্র বাসনা থেকে খাদ্যে ভেজাল দিয়ে অল্প দিনে কোটিপতি হচ্ছে। অপর দিকে নিরীহ ক্রেতা, সাধারণ নাগরিক রোগের চিকিৎসা করতে করতে সর্বস খুইয়ে চিরকালের জন্য মৃত্যুর পথের যাত্রী হয়ে যায়। অসহায় লোক কাঁদে বেঈমান মুনাফেক অথলোভী নরপিচাষরা হাসে। মানুষ কি খাবে গরুর দুধেও ভেজাল করেছে সকল প্রকার খাদ্যে ভেজাল এই ভেজাল খাদ্য খেয়ে যে অসুস্থ হয় তার রোগ সারাতে ঔষধ খায় সেই টাও ভেজাল জীবন রক্ষাকারী ঔষধ যদি কেউ ভেজাল করে তাকে কি বলা যায় আর কি শাস্তি হতে পারে? আমাদের দেশের মানুষের কাছে এখন টাকাই মূল্য হয়ে গেছে। যে কোন উপায়ে টাকার পাহাড় বানাইতে হবে তবেই ক্ষমতা, তবেই সম্মান বীরদপর্নে চলা যাবে। ইয়াবার ব্যবসায়ী হয়েও নামের আগে মাতাব্বর লিখা যাবে বাহ্ কি চমৎকার আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। ভেজাল খাদ্য নকল ঔষধ চেইন সিস্টেমে চলে আসে ভোক্তার হাতে একক ভাবে। কেউ একক ভাবে এই ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষুধের জন্য দায়ী না। এই মানুষ খুনী অপরাধীরা একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেট এদের ডালপালা অনেক বড়। কৃষকের জমি থেকে গৃহিনীর রান্নাঘর পর্যন্ত প্রতিটি খাদ্যে ভেজাল কেমিক্যাল ও বিষযুক্ত সবাই জানে তবু সবাই নিশ্চুপ বড় অসহায় অদৃশ্য শক্তির কাছে। শাকসবজি ও ফলমূল সতেজ ও তরতাজা করে দীর্ঘদিন রাখার জন্য ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড সহ বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার হচ্ছে। যা মানবদেহের কিডনি, লিভার, ক্যান্সারসহ চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। আমরা অনেকে জানিনা শুটকি মাছের মধ্যে ব্যবসায়ীরা বিষাক্ত কীটনাশক ও ডি.ডি.টি ব্যবহার করে যা মানব দেহের ক্যান্সার, হার্টের রোগসহ জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে। কাঁচা কলাকে কেমিক্যালযুক্ত পানি স্প্রে করে লাইন ধরে সাজিয়ে রাখে কি হলুদ বর্ণ হয় মনে হয় একেবারে গাছপাকা কলা। তরমুজের মধ্যে কাপড়ের বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত লাল রং পুশ করা হয়, তাই রক্তের মত লাল দেখায়। করলা, মটরশুটি সবুজ বর্ণ করার জন্য বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত পানির ড্রামে কিছুক্ষন ডুবিয়ে রাখে। শুনেছি, ইউটিউবে দেখেছি এখন নাকি চায়নারা প্লাস্টিকের ডিমও তৈরি করে। দেশি ফার্মের মুরগির ডিমে স্প্রে করা হয় যা বাদামী কালার ছিট ছিট দেখা যায়। এই ডিম খেতে গন্ধ মনে হয় ও শরীরে ক্ষতি করে। হলুদ, মরিচ, ধনিয়ার সাথে যে বিষাক্ত কেমিক্যাল রং ব্যবহার করে তা কিডনি, লিভার ও হার্টের জন্য ভয়ংকর ক্ষতির কারণ। বাজারে ৯৫ ভাগ জুসের মধ্যে ফলের রস বলতে কিছুই নেই, আছে কেমিক্যাল, নিদিষ্ট ফলের ফ্লেবার, সেকারিন, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা পেপে, প্রিজারভেটিভস ও বিষাক্ত কালারিং রং। এক কথায় টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছি। আমরা নাগরিকরা সচেতন নই তাই ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষধের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারিনি। বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভিতে বিভ্রান্তিমূলক ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কিনে খেয়ে প্রতারিত হই। আমাদের দেশে নারীর অধিকার, উপযুক্ত মজুরী, খুনির বিচার, গ্যাসের দামের বৃদ্ধির প্রতিবাদ, ধর্ষনের বিচার মানীলোককে কূটক্তি করার বিচার চাওয়া হয়, মিটিং মিছিল, মানবন্ধন করা হয়, কোটে রিট করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে দামী মানব দেহকে যারা তিলে তিলে ক্ষয় করে নিরবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার হচ্ছে না, বিচার চাওয়া হচ্ছে না। ভেজাল, বিষাক্ত খাদ্য নকল ঔষধ এর সাথে যারা জড়িত সেই কুচক্রী ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে তীব্র প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও কোটে রিট করতে দেখা যায় না। ভেজাল খাদ্য নকল ঔষধ যারা প্রতিরোধ করবে বাজারে খাদ্য ঔষধ ও ভেজালপণ্য যারা মনিটরিং করে ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রন করবে তাদের মাঝেই ঘুন পোকায় ধরেছে। বেড়ায় যদি ক্ষেত খায় বেড়া শক্ত হলেও ঐ ফসল রক্ষ হবে না। আল্লাহ বা ভগবানের পরে মানুষ ডাক্তারকে বিশ^াস করে এবং শরীরের সকল গোপন কথা খুলে বলে। সেই ডাক্তাররা নিজেদের অধিকার সুযোগ সুবিধা নিয়ে আন্দোলন করে কিন্তু ভেজাল খাদ্য নকল ঔষধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য কোন ভূমিকা পালন করে না। ডাক্তাররা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ভেজাল খাদ্য, নকল ঔষধ বিষয়ে অভিযোগ তুলে না। কারণ তাদের রোগী কমে যাবে, ব্যবসায় ধস নামবে, প্যাথলজি থেকে কমিশন কমে যাবে। ডাক্তার বটপাতাকে কোন রোগের মহৌষধ বললে রোগী বিশ^াস করে ঐ বটপাতাই খাবে। ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষধ প্রতিরোধ করতে ডাক্তারের ভূমিকা সীমাহীন দরকার, প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতা ও নিঃস্বার্থ ভাবনা। প্রশাসন, সজাগ হলে দলীয় নেতারা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষধের প্রতি সোচ্চার হলে মানুষ অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। বি.এস.টি.আই ঔষধ প্রশাসন, ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার পরিষদ কর্তৃপক্ষ যদি নিজ দায়িত্ব শতভাগ সঠিকভবে পালন করে, অসৎ ব্যবাসায়ীদের মৃত বিবেক যদি জাগ্রত হয়ে ওঠে তবে ভেজাল খাদ্যও নকল ঔষধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। মানব জাতির জন্য মহৎ কিছু করার বাসনা থাকলে সাংবাদিক ভাইয়েরা লিখনের মাধ্যমে নিরীহ দেশপ্রেমিক নাগরিককে সচেতন করে তুলতে এদেশের সমাজ থেকে ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষধ উঠে যেতে বাধ্য হবে। রোগীর সংখ্যা কমে যাবে। মনে আসবে শান্তি, সংসারে আসবে সুখ। যারা প্রকৃত মুসলমান ব্যবসায়ী তারা কখনো বিষযুক্ত ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষধ অন্য মুসলমান ভাইকে খাওয়াতে পারে না, তারা মাপেও কম দিতে পারে না। শুধু মুনাফেক, কাফের, বেঈমান মানব নামের দানব ব্যবসায়ী তারা ক্রেতাকে ঠকাবে, প্রতারণা করবে, তারা ব্যবসায়ী না ওরা মুনাফেক। নিজ স্বার্থে আঘাত লাগলে সবাই ঘুরে দাঁড়ায় কিন্তু ভেজাল খাদ্য ঔষধে মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে তবু এক কাতারে এসে সবাই তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছে না। অসুস্থ রোগীর হয়ে এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ভারত, সিঙ্গাপুর ছুটছে, এই চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যেও কমিশন লুকিয়ে আছে। মানুষকে ক্ষতি করে, বিপদে ফেলে, মানুষকে নিজস্বার্থের জন্য বিষ খাইয়ে ইবাদত করলে আল্লাহর দরবারে ইবাদত কবুল হবে না। অবৈধ পথের অর্থ দিয়ে শরীরের রক্ত মাংস তৈরি করলে ঐ শরীরে ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে ন । সমাজে অর্থবৃত্তের পাহাড় করার জন্য কিছু বেঈমান, মানবরূপী দানব ব্যবসায়ীরা ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষধ বাজারে সয়লাব করে দিচ্ছে। এরাই প্রকৃত পক্ষে মানুষ খুনী, ঘাতক, মানুষগুলো মোমের মত শেষ হয়ে যায় কিন্তু কিছু করা যাচ্ছে না। খাদ্যে ভেজাল ও নকল ঔষধ সরবরাহকারীরাই লেবাস ধারী ভন্ড, মুনাফালোভীরা কথায় পাক্কা ঈমানদার, ভাবনায় বিষের ছোবল।

-লেখক: সাংবাদিক, নাট্যকার ও কলামিষ্ট

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...