1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. hmgkrnoor@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  5. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  6. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  7. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
‘সমাজের জন্য এক মিনিট সময় ব্যয়’ প্রজেক্টের আওতায় গ্রুপ কাউন্সেলিং মাদারীপুরে জেলা ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়ায় পরকীয়ার জেরে যবুককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৩ সাঁথিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার কাঁটাতারের বেড়ায় অবরুদ্ধ তিনটি পরিবার, পুলিশ হস্তক্ষেপে অপসারণ কিশোরীর মৃত দেহ উদ্ধার মহেশপুর এ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পাঠক মতবিনিময় সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত যশোরের মণিরামপুরে বিপুল পরিমান জাল ব্যান্ডরোলসহ তিনজন গ্রেপ্তার মহিমাগঞ্জ বসত বাড়ির জায়গা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব মারপিটে যখম ও আহত ২ আশাশুনির বিছট স্কুলের সামনে ফাটল সোনাগাজীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের সাথে  উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী লিপটন’র মতবিনিময় অনুষ্টিত  




‘মোর মতো কষ্ট আর কুনো মাইনসের নাই, স্বামী জন্ম থেকে অন্ধ’

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩
  • ১৪৯ বার পঠিত

নইমুল হক নায়ুম, বালিয়াডাঙ্গী প্রতিনিধি: গত সোমবার (৮ মে) সকালে বালিয়াডাঙ্গী থেকে লাহিড়ী বাজার যাওয়ার পথে চোখে পড়ে মাটির তৈরি জিনিসপত্র বাইসাইকেলে ঝুলিয়ে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এক কিশোরী। সেই সাইকেলের পেছনের একটি অংশ ধরে তার পেছন পেছন হাঁটছেন একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

বাইসাইকেল থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তারা দুজনে সম্পর্কে বাবা ও মেয়ে। কিশোরীর নাম রিনা রানী (১২) ও তার বাবা সুবেশ চন্দ্র পাল। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা আমজানখোর ইউনিয়নের উদয়পুর বালুবাড়ী (পালপাড়া) গ্রামের তাদের বাড়ি।

কথা বলার চেষ্টা করলে রিনা রানী জানায়, এখন কথা বলার সময় নেই তার। কারণ বাজারে জিনিসপত্র বিক্রি না করতে পারলে না খেয়ে থাকতে হবে তার পরিবারকে। এ কথা বলেই চলে যায় বাজারে।

খোঁজ নিতে সোমবার বিকেলে রিনা রানীর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, একজন নারী মাটিতে পানি দিয়ে কাঁদা তৈরি করছেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর নাম তুলন বালা। তিনি রিনা রানীর মা। মাঠ থেকে তুলে আনা মাটি প্রস্তুত করছেন মাটির জিনিস তৈরি করার জন্য। রাতের মধ্যে তৈরি করতে এবং সেগুলো পোড়াতে হবে। সকালেই বাজারে নিয়ে যাবে মেয়ে ও তাঁর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামী।

কাছে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে শুরুতে কেঁদে ফেলেন। এরপর বলেন, ‘মোর মতো কষ্ট আর কুনো মাইনসের নাই, স্বামী জন্ম থেকে অন্ধ, বেহার (বিয়ের) পর থেকে মাইনসের বাড়িত বাড়িত যাই, পয়সা তুলে যা হইতো তাই দিয়া খায়া বাঁচে আছি। একটাই মেয়ে হামার সংসারত, উহার উপরত ভরসা করে সংসারটা চলেছে। মেয়েটা না হলে না খায় মরিবা লাগলেহে (লাগত) হামাক।’

প্রতিবেশী জয়ন্তী রানী জানান, রিনার বয়স যখন ৭ বছর তখন থেকে তার বাবা তাকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্ষা করতেন বিভিন্ন বাজারে। একটি লাঠি নিয়ে রিনা সামনে হাঁটত, তার বাবা সেই লাঠি ধরে পেছনে হাঁটতেন। মেয়েটার বয়স ১০-১১ বছর হওয়ার পর বিভিন্ন লোকজন নানা কথা বলা শুরু করে। এরপর মেয়েটা আত্মসম্মানের কথা বিবেচনা করে মায়ের তৈরি করা মাটির জিনিসপত্র বাজারে বিক্রি করা শুরু করে। এভাবেই কোনোমতে তাদের সংসার চলছে।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাজার থেকে ফেরেন রিনা রানী ও তাঁর বাবা। সুবেশ চন্দ্র পাল জানান, এখনো মাঝে মাঝে মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি না হলে দোকানে দোকানে ভিক্ষা করতে বের হতে হয়। এ ছাড়া কোনো রোজগারের সুযোগ নেই তাঁর পরিবারের।

রিনা রানী বাদেও দুই ছেলে রয়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুবেশের সংসারে। লক্ষী চন্দ্র (১৩) ও পল্লাদ চন্দ্র (১৫)। পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় ৪ দিন হলো ঢাকায় পাঠিয়েছেন কাজের সন্ধানে। প্রতিবেশী পরিচিত ব্যক্তি ঢাকায় থাকেন। তার ছেলে দুটোকে রাজমিস্ত্রির লেবার হিসেবে কাজ পাইয়ে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

কিশোরী রিনা রানী জানান, সমাজের অন্য ১০টার মেয়ের মতো তারও ইচ্ছে হয় স্কুলে যাওয়ার, পড়াশোনা করে মানুষ হওয়ার। কিন্তু বাবা আর পরিবারের কথা চিন্তা করে বাড়ির পাশে একটি স্কুলে ভর্তি হলেও তৃতীয় শ্রেণি থেকে পড়ালেখা বাদ দিতে হয়েছে তাকে। এখন বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি এবং বাড়ির যাবতীয় খরচ করতে দিন কেটে যাই তার।

রিনা রানী বাবা ও মায়ের শেষ ইচ্ছে কয়েক বছর পর মেয়েটাকে বিয়ে দিয়ে পরের ঘরে পাঠাতে হবে। এ জন্য দরকার আর্থিক সহায়তা। স্থানীয়রা বলছেন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সমাজের বৃত্তবানেরা সহযোগিতা করে কিছু অর্থ দিয়ে বাড়ির পাশে একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দিলে পরিবার কষ্ট লাঘব হবে। আর ভিক্ষা করতে হবে না রিনা ও তার বাবাকে।

আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকালু (ডংগা) বলেন, ‘পরিবারটি অত্যন্ত গরিব। মেয়েটাকে নিয়ে কখনো ভিক্ষা কখনো মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করে কোনোমতে চলছে।

 

নাগরিক ভাবনা/এইচএসএস 



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...