1. info.nagorikvabna@gmail.com : Rifan Ahmed : Rifan Ahmed
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. holysiamsrabon@gmail.com : Holy Siam Srabon : Holy Siam Srabon
  4. mdmohaiminul77@gmail.com : Mohaiminul Islam : Mohaiminul Islam
  5. ranadbf@gmail.com : rana :
  6. rifanahmed83@gmail.com : Rifan Ahmed : Rifan Ahmed
  7. newsrobiraj@gmail.com : Robiul Islam : Robiul Islam
আমার অপরাধ একটাই অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়া অতঃপর…
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
দেশব্যাপী প্রচার ও প্রসারের লক্ষে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা সিভি পাঠান info.nagorikvabna@gmail.com অথবা হটলাইন 09602111973-এ ফোন করুন।

আমার অপরাধ একটাই অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়া অতঃপর…

  • সর্বশেষ পরিমার্জন : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় নিজের স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে অমানবিক নির্যাতন করে পাষণ্ড স্বামী মনিরুজ্জামান ওরফে জামান। খবর পেয়ে ৯৯৯ ফোন করেন ভূক্তভোগীরা। পরে পুলিশ এসে ভূক্তভোগীকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনো আসামীদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

উল্টো মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় ভূক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে আসামীপক্ষ। মামলা তুলে না নেওয়াই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ছয় বছর আগে মুক্তাগাছার কুমারগাতা ইউনিয়নের কৃষক মুকছেদুল আলমের মেয়ে মাহফুজা আক্তার তামান্না (২৪) সঙ্গে বিয়ে হয় একই ইউপির খুকশিয়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে মনিরুজ্জামানের ( জামানের)। তাদের সংসারে চার বছর বয়সের সুমাইয়া আক্তার নামের একটি কন‍্যা সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী, ভূক্তভোগীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের টাকার জন‍্য একাধিক বার তামান্নাকে মারধর করে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ছয় বছরে যৌতুক বাবদ এক লক্ষ টাকা দিয়েছে মনিরুজ্জামানকে বলে দাবি করছেন মেয়ের বাবা মুকছেদুল।

অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তামান্না শুক্রবার রাতে দৈনিক নাগরিক ভাবনার প্রতিবেদক কে  জানায়, বিয়ের পর থেকেই টাকার জন‍্য আমাকে মারধর করতে থাকে। টাকা আনতে বিভিন্ন সময় আমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। টাকা আনতে না পারলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আমার স্বামী মনিরুজ্জামান। টাকা আনতে না পারায় আমাকে আগস্ট মাসের ১ তারিখ চাকরির কথা বলে গাজীপুরের মাওনা নিয়ে যায়। বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন সময় লোকজন এনে আমাকে বিবস্ত্র করে অনৈতিক কাজ করতে বাধ‍্য করে সে।

বর্ণনাহীন এমন অনৈতিক কাজে রাজি না হলেই চলে বিভিন্ন ধরনের অমানবিক নির্যাতন। এমনকি জ্বলন্ত সিগারেটের আগুন আমার গাঁয়ে ও গোপনাঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ঢেসে ধরে নির্যাতন চালায়।গলায় কয়েকবার দা দরে করেছে মেরে ফেলার চেষ্টা।

কাঁদতে কাঁদতে তামান্না আরও বলেন, চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার পর থেকে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায় মনিরুজ্জামান। আমাদের ঘরের খাটের সাথে আমার চার হাত-পা বেঁধে সিগারেটের ভিতরে কি যেনো ঢুকিয়ে আমাকে ধুঁয়া টানতে বলে আর মারতে থাকে মোবাইল বের করে চারটি নাম্বার দেখিয়ে বলে এই চারজন লোক বাসায় আসবে তাদের সাথে রাত্রি যাপন করতে হবে তোকে। এ কথা শুনে আমি আল্লাহ্কে ডাঁকতে থাকি। ঐ সময়ও আমি বিবস্ত্র অবস্থায় রয়েছি। আমি রাজি হয়নি দেখে ওর হাতে থাকা দাঁওয়ের উল্টো পাশ দিয়ে আমাকে মারতে থাকে। ও ঘরের বাহিরে গেলে আমি ভিতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে বিবস্ত্র অবস্থায় পালাতে চেষ্টা করি কিন্তু ও টের পেয়ে যায় এবং আমাকে আটকে ফেলে পরে গোয়াল ঘরে এনে রশি দিয়ে দুই হাত বাঁধে এবং শিকল দিয়ে দুই পা বেঁধে ফেলে রাতভর নির্যাতন করতে থাকে। আমার অপরাধ ছিল একটাই অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়া। আমার স্বামীর বড় ভাই মুন্জু তার স্ত্রী এই অবস্থায় দেখেও আমাকে সহযোগিতা করে নাই। বড় ভাইয়ের ছেলে মেহেদী তাদের সহযোগিতা করেছে।

পর দিন লোকমুখে খবর পেয়ে মেয়ের চাচি লতিফা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের করুন অবস্থা দেখে জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে পুলিশ এসে তামান্নাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে।

ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় চায়ের দোকানী আবুল কালাম বলেন, বিয়ের পর থেকে ঐ মেয়েকে দেখে খুবই ভদ্র ও শান্ত সৃষ্ট মনে হয়েছে। তার চলাফেরাই ছিল শালীনতা। মনিরুজ্জামান নেশা করে এটা এলাকার সবাই জানেন। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় তার বৌউকে মারধর করত জামান।

এলাকাবাসী সাইফুল ইসলাম,সাদেক আলী,আব্দুস ছাত্তার, মোসলেম উদ্দিনের সাথে কথা বলা হলে ঘটনা প্রসঙ্গে তারা বলেন, তামান্নাকে বিভিন্ন সময় মারধর করছে বিষয়টি সত‍্য। গোয়াল ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিল জামান এ বিষয়টিও সত‍্য।

ঘটনায় বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তামান্নার মা জুলেখা খাতুন। তিনি বলেন আমার জীবনে যে ধরনের ঘটনা আমি শুনিনি। সেই ঘটনা আমার মেয়ের ক্ষেত্রে ঘটে গেল। মামলা করা হলেও এখনো পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারিনি। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমাদেরকে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রাত পার করছি।

এ প্রসঙ্গে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, মেয়েটির উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিরা সবকিছু বিক্রি করে এলাকা থেকে পালিয়েছে। আসামি গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব‍্যাহত রেখেছি আমরা।

নাগরিক ভাবনা/আকাশ/এইচএসএস

আরো সংবাদ পড়ুন

নাগরিক ভাবনা লাইব্রেরী

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930