1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  5. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  6. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে : নসরুল হামিদ মানুষের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা রয়েছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ৫ বছরে সরকারি চাকরি পেয়েছেন কতজন, জানালেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী নির্দেশনা না মানলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘বিএনপির আটক কর্মীদের মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই’ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরকারের একটি অমানবিক খেলা: রিজভী একা একা লাগে মাহিয়া মাহির রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখবে সরকার: কাদের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য টগরকে নাগরিক সংবর্ধনা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৩৩টি গাঁজাগাছ সহ নারী গ্রেপ্তার




যশোরে ৩৩ বছরে ১ হাজার ১৮০ জনকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৭ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা: মৃত্যুর পরেও মেলেনি নাম-পরিচয়। পরে দাফন করা হয় ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে। তবে বেশিরভাগ সময় লাশ থাকে গলিত বা অর্ধগলিত। নির্দিষ্ট সময় পর এসব লাশ দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। গত ৩৩ বছরে যশোর জেলাতে এমন নাম-পরিচয়হীন ১ হাজার ১৮০ জনকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে সংস্থাটি।

সমাজে যাদের নাম, ঠিকানা বা জন্মসূত্র জানে না তাদের ‘বেওয়ারিশ’ বলে। এমন নাম-পরিচয়হীনভাবে দাফন হওয়া লাশের সংখ্যাও নিছক কম নয়। এমন অনেক শিশুর জন্ম হয় চার দেয়ালে; কিন্তু তাদের শৈশব থেকে শুরু করে বৃদ্ধকাল কাটে পথে পথে। পিতা-মাতা, ভাই-বোনের আদর ভালোবাসা না পাওয়ায় তাদের সাথী হয় আরেক ভবঘুরে। দিনে ভিক্ষাবৃত্তি করে চলে। আর রাতের আকাশ তাদের জন্য হয় এক টুকরো বসত ঘর। জন্মের পর তাদের দায় যেমন কেউ নেয় না, তেমনি মৃত্যুর পরেও পরিচয়হীনভাবে দাফন করতে হয় তাদের। আবার শুধু ভবঘুরেরা নয়; অনেককে খুন করে নির্জনস্থানে ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। ওই সব লাশের পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশভাবে দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম নামের সংস্থাটি।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম যশোর কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত যশোরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম নাম-পরিচয়হীন ১ হাজার ১৮০ জন ‘বেওয়ারিশ’ লাশ দফন করেছে। এসব মৃতদেহ মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষ, শিশু ও নবজাতক। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাশের অনেকগুলো বিকৃত অবস্থায় থাকে। এজন্য সংস্থাটি বেওয়ারিশ সব লাশের ছবি সংরক্ষণ করে রাখে তারা।

চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পৌর গেটের সামনে একটি ব্রিজের নিচে অজ্ঞাত এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে ছিল। পরে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এরপর লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ করে পুলিশ। তাদের ছবি নিয়ে শার্শার আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করা হয়। বিভিন্ন থানায় ছবি পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও চেষ্টা করে পরিচয় পেতে। সব উদ্যোগের পরেও তার পরিচয় মেলেনি। অবশেষে বেওরারিশ হিসেবে ওই যুবকের লাশ দাফন করে যশোরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম।

এদিকে চলতি বছরে ৪ জানুয়ারি চৌগাছা উপজেলার এক পুকুরে ভাসে থাকে নবজাতকের লাশ। চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ঝাউতলা বাজার এলাকার মোজাফফর হোসেনের পুকুর থেকে এই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরে চৌগাছা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী নবজাতকের পরিচয় শনাক্তে জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিচয় না পাওয়ায় লাশটি ‘বেওরারিশ’ হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম।

চৌগাছা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ জানান, শিশুর পরিচয় জানতে না পারায় আমরা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করি। তারাই লাশ দাফন করেন। তিনি আরও বলেন, নবজাতকের পরিচয় উদ্ধারে জন্য বিভিন্নভাবে তদন্ত শুরু করি। কিন্তু কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের যশোর কার্যালয়ের মাঠ কর্মী মাওলানা আব্দুল হাসান বলেন, যাদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায় না। সেই সমস্ত লাশ প্রশাসন আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেই লাশ আমরা দাফন করি।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের যশোর কার্যালয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ গোলাম ফারুক প্রতিবেদক জেমস আ্বদুর রহিম রানাকে বলেন, নাম-পরিচয়হীন লাশের দাফন করা খুবি জটিল কাজ। আমরা লাশ পেলেই যে দাফন করবো সেটা না। দাফন প্রক্রিয়ায় সরকারে বিভিন্ন মহলের মানুষ জড়িত থাকে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত যশোরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম থেকে নাম-পরিচয়হীন ১ হাজার ১৮০ জন ‘বেওয়ারিশ’ লাশ দফন করা হয়েছে। এসব মৃতদেহের মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষ, শিশু ও নবজাতক।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন বলেন, যেসব লাশের নাম পরিচয় পাওয়া যায় না। ওই লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে হস্তান্তর করা হয়।



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...