1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. hmgkrnoor@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  5. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  6. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  7. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজারহাটে ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা ফের আটক ধর্ষন মামলায় আ’লীগ নেতা মুহিবুর ছাত্রী-শিক্ষক গভীর প্রেম, অভিযুক্ত প্রভাষক ও সহযোগী পিয়ন বরখাস্ত ফেনীতে দখলদারদের কবলে পশু জবাইখানা,উদ্ধারে তৎপর পৌর মেয়র মন্ত্রী–এমপিদের সন্তান ও স্বজনদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার না করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত ৩০ এপ্রিল যশোর মনিরামপুরে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মুনজুরুল আক্তারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, থানায় অভিযোগ ছাগলনাইয়ায় বৃষ্টি প্রার্থনায় সালাতুল ইসতেস্কা আদায় ও বিশেষ মুনাজাত সোনাগাজীতে প্রবাসীর স্ত্রী থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ,ছাত্রলীগ নেতাকে শোকজ কুষ্টিয়া দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ৮টি ঘর ভষ্মিভূত গরমে পোষা প্রাণীর যত্ন নেবেন যেভাবে




যশোরে টিসিবি’র ডিলার নিজামুলের বিরুদ্ধে আবারও কালোবাজারে পণ্য বিক্রির অভিযোগ

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৯৪ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা: আবারও টিসিবি’র পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন ডিলার নিজামুল হক। দুপুর দেড়টার ভিতরেই তড়িঘড়ি করে কিছু কার্ডধারীর পণ্য দিয়ে তলপি-তলপা গুটিয়ে চলে গেছে তার লোকজন। যেকারণে অনেক কার্ডধারী টিসিবি’র পণ্য পায়নি। এ নিয়ে অন্তত তিন দফা সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা গেছে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবহৃত স্কুল কক্ষে তালা ঝুলছে। এসব অনিয়মের খবর বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় বেরিয়েছে। কিন্তু নিজামুল হক সরকারের এই ভর্তুকি পণ্য উত্তোলন করে সিংহভাগ কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। যেকারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গিয়েও কার্ডধারীরা সাশ্রয় মূল্যের চাল,ডাল ও সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না। তবে এসবের কিছুই জানেন না অভিযুক্ত ডিলার নিজামুল হক। তার দাবি, আমি ডিলার হলেও পণ্য বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছি শ্রমিক নেতা বাহাদুরকে। এতে লাইসেন্স ভাড়া দেয়ার অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ পায় বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

আজ বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ৩ টার দিকে অভিযোগ পেয়ে যশোর শহরের শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক। এসময় বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে কার্ড হাতে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারা বলেন, আমরা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে টিসিবি’র পণ্য নিতে এসে দেখি ডিলার নিজামুল হকের লোকজন নেই। স্থানীয়রা আমাদের জানিয়েছেন- দুপুর দেড়টার ভেতরেই তারা তলপি-তলপা গুটিয়ে চলে গেছে। এসময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- পত্র-পত্রিকায় সংবাদ বের হলে আমাদের দোষারুপ করা হয়। একারণে পরবর্তীতে পণ্য টিসিবি’র পণ্য নিতে এসে হয়রানীর শিকার হতে হয়। তাই আমাদের নাম পত্রিকায় না দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন- তিনি যশোর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের টিসিবি’র একজন কার্ডধারী। আমাকে পণ্য নিতে আসতে হয়। তবে, দুপুর দেড়টার ভেতরে আসতে না পারলে সেদিন আর টিসিবি’র চাল, ডাল ও তেল কপালে জোটে না। তার মতো আরও ৪-৫ জন কার্ডধারী একই অভিযোগ করেন। তারা বলেন- আমরা বিভিন্ন কর্মে জড়িত। যেকারণে দেড়টার ভেতরে আসতে পারিনে। নিয়মানুযায়ী বিকেল ৪ টা পর্যন্ত টিসিবি’র পণ্য বিক্রির সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ডিলাররা সরকারি নির্দেশনা মানলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে নিজামুর হক প্রত্যেকবারই অনিয়ম করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখির পরও তার লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে না।

এবিষয়ে, নিজামুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আমি বিক্রয় কেন্দ্রে যাইনে। তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে বলেন- ওই এলাকার কেউ কি আমাকে চেনে? তিনি আরও বলেন- স্কুলটিতে আমার লোকজনের পাশাপাশি আরেকজন ডিলারও টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করে। তিনিও তো নেই, তাহলে মানুষ আমাকে নিয়ে কেন অভিযোগ করবে? এক প্রশ্নোত্তরে বলেন- আমি ঠিক জানি না কখন আমার লোকজন পণ্য বিক্রি করে চলে গেছে। নিশ্চয় সব পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। আগে-ভাগে বিতরণ কার্যক্রম শেষ হওয়াই লোকজন চলে আসতে পারে। কেন্দ্রটিতে অপেক্ষায় থাকা নারী-পুরুষদের হাতে থাকা কার্ডগুলো কী ভুয়া(?) জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন তা কেন হবে। দেখছি খোঁজ খবর নিয়ে। একপর্যায়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিসিবি’র জনৈক ডিলার জানান, নিজামুল হক টিসিবি’র নামে মাত্র ডিলার। তার মেসার্স হাজী এন্টারপ্রাইজের নামে টিসিবি’র লাইসেন্স নিয়ে ভাড়া দিয়ে খাচ্ছে। যেকারণে পণ্য উত্তোলন ও বিক্রির বিষয়ে তিনি কোন খোঁজ-খবর রাখেন না। ফলে সাংবাদিকরা তাকে ফোন দিলে ভুল ভাল তথ্য দেন। এরআগেও নিজামুল হকের নামে লাইসেন্সের পণ্য তুলে বিশেষ কায়দায় কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পত্র-পত্রিকায় লেখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, নিজামুল হকের লাইসেন্সে ৬৬০ জন কার্ডধারীর পণ্য উত্তোলন করে অর্ধেকের বেশি কালোবাজারে বিক্রি হয়ে যায়।

এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত নিজামুল হক বলেন- আমার লোকজন নাই চলে এসেছে কিন্তু পাশের কক্ষে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করে, তারা গেল কোথায়? তারা বিরুদ্ধেও লেখেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বলেন আমার নামে লাইসেন্স থাকলেও পণ্য উত্তোলন ও বিক্রি কার্যক্রম বাহাদুর করেন। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় নিজামুল হক লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে খাচ্ছেন। যেকারণে কার্ডধারীদের ৫০ ভাগ লোকও পণ্য পাচ্ছে না।

জানতে টিসিবির ডিলার এসোসিয়েশন যশোরের সাধারণ সম্পাদক মাফুজুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করা বাধ্যতামূলক। কোন ডিলার যদি নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে চলে যায়, তাহলে অনিয়ম হয়েছে বলেই প্রমাণিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টিসিবি সব সময় বাজারমূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমে পণ্য বিক্রি করে। বাজারে যখন বিভিন্ন কারণে তেল, চিনি, ডালের চাহিদা ও দাম বাড়ে, তখন টিসিবি তালিকাভুক্ত ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ অনেকটাই পণ্যমূল্যে স্বস্তি পায়। সরকার এসব পণ্যে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে ছাড়ে।

কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ডিলার বাজারের অধিক চাহিদার সুযোগে টিসিবির পণ্য নির্ধারিত স্থানে বিক্রি না করে বাড়তি দামে কালোবাজারে বিক্রি করে দেন।
টিসিবির ডিলার নিয়োগ গাইডলাইনে ডিলারশিপ বাতিলের ১৬টি কারণ বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর শর্তটি হলো—বরাদ্দকৃত পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম, ওজন বা মূল্যে কারচুপি করলে অথবা পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করলে ডিলারশিপ বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এর পরও প্রায়ই ওজনে কম দেওয়া এবং পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনিয়ম হাতেনাতে ধরাও পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটা সময় ছিল, যখন বছরে মাত্র একবার পণ্য দেওয়া হতো ডিলারদের। সেটা হতো রমজান মাসে। তা-ও খুব ব্যাপকভাবে নয়। কমিশনও কিছুটা কম ছিল।
ফলে নিয়ম-কানুনে অনেকটাই ছাড় দেওয়া হতো। এতে অনেক ডিলার অবহেলা করে দীর্ঘদিন পণ্য উত্তোলন করতেন না। অনেকে দুই বছর পণ্য না তুলেও ডিলার হিসেবে থেকে যেতেন। জামানতের পরিমাণ কম থাকায় একটা গাছাড়া ভাব ছিল পণ্য বিক্রিতে। অনিয়মও ছিল বেশি। কিন্তু এখন অনেক কিছুই বদলে গেছে। নানা প্রয়োজনে, বিভিন্ন উপলক্ষে বছরে তিন থেকে চারবার পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুই ঈদ ছাড়াও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পণ্য বিক্রি করা হয়। ফলে প্রায় সারা বছরই টিসিবির পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিলারদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। তাই নিয়ম-নীতিতেও কঠোরতা এসেছে। এতে ডিলারশিপ বাতিলও হচ্ছে বেশি।
টিসিবির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে গত মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত কুমিল্লায় ২২ জন, ময়ময়নসিংহে ১৪ জন, বগুড়ায় চারজন ঝিনাইদহে সাতজন এবং খুলনায় তিনজনের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে বিভিন্ন কারণে।



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...