1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. hmgkrnoor@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  5. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  6. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  7. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :




যশোরে জমে উঠেছে পুরাতন শীতবস্ত্রের কেনাবেচা, মধ্য রাতে দুই শতাধিক ছিন্নমূলকে কম্বল দিলেন ডিসি

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৫২ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা: সারা দেশের মতো যশোরেও হঠাৎ করে জেঁকে বসেছে শীত। যশোর জেলা শহরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে কুয়াশা তেমন না থাকলেও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তিতে পড়েছে অল্প আয়ের মানুষগুলো। উষ্ণতা পেতে তারা ঝুঁকেছেন পুরাতন কাপড়ের দিকে। ফলে জমে উঠেছে পুরাতন শীতবস্ত্রের মার্কেটগুলো। জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেট এবং বিভিন্ন স্থানে ভাসমান ভ্যানে করে পুরনো কাপড় বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষ্য করা গেছে, ফুটপাতের দোকানগুলোতে সস্তায় বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড় কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। পুরনো গেঞ্জি, সোয়েটার, হাত ও পা মোজা, টুপি, উলের চাদর, কম্বল ইত্যাদি কেনাবেচা হচ্ছে। ছোট বড় সব ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এসব দোকানে। ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন সাইজের কাপড়ের জ্যাকেট ও মোটা সোয়েটার বিক্রি করা হচ্ছে। কম দামে পোশাক কিনতে পেরে ক্রেতারাও বেশ খুশি।

শহরের টাউনহল মাঠ সংলগ্ন পুরাতন কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের আগ্রহ যেন একটু বেশি। এর মূল কারণই হলো এখানকার কাপড়ের দাম কম। এ কারণেই নিম্ন ও মধ্য আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। ১৫ থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী এখানে কাপড় বিক্রি করেন। চাড়াভিটা এলাকার নিম্ন আয়ের ক্রেতা ইয়ার আলী জানান, আমরা দিন আনি দিন খাই। আমাদের মতো গরীব মানুষ শীতে গরম কাপড় কিনতে পারেনা। তাই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করতে হয়। ফলে অনেকটা সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। তাই ফুটপাতের দোকানে বাচ্চাদের জন্য কিছু গরম কাপড় ক্রয় করছি।
পুরাতন কাপড় বিক্রেতা জয়নাল আবেদিন জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে এ বছর কয়েক লট মাল আনা হয়েছে। ভাল বিক্রিও হচ্ছে। ক্রেতারা প্রচুর আসছে। কোন কোন লটে অনেক ভাল কাপড় থাকে। সেই ভাল কাপড় খুঁজে নিতে ক্রেতাদের থাকে বাড়তি আগ্রহ।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে শহরের দড়াটানা, কালেক্টরেট মার্কেট, টাউন হল ময়দান সংলগ্ন পুরাতন মার্কেট, নিউ মার্কেট এলাকায় ঘুরে পুরাতন শীতবস্ত্রের মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এসব দোকানে সোয়েটার, জ্যাকেট, কানটুপি, মাফলার, হাত ও পায়ের মোজা, কম্বল ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে। শিশুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের শীত নিবারণ আর ঘরে পরার জন্য অল্প দামে গরম কাপড় কিনতে এসেছেন তারা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এসব মার্কেটের ক্রেতা।
জেলা শহরের ফুটপাতে শীতের গরম কাপড় কিনতে আসা দম্পতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, কম দামে শীতের গরম কাপড় কিনতে তারা ফুটপাতের দোকানে এসেছেন। শীতের প্রায় সবধরনের পোশাক এখানে আছে।

কালেক্টরেট মার্কেটের ব্যবসায়ী আলম হোসেন বলেন, এবার পৌষের শুরুতেই হাড় কাঁপানো শীত নেমে এসেছে। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে গরম কাপড় কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। উচ্চ আয়ের মানুষেরা বিভিন্ন নামিদামী মার্কেট থেকে গরম কাপড় কিনতে পারলেও নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা এসব মার্কেট।

ফুটপাতের গরম কাপড় বিক্রেতা কামাল ও রমজান আলী বলেন, তারা ঢাকা থেকে শীতের পুরনো কাপড় ক্রয় করেন। কিছুটা কমদামে ভালমানের এসব শীতের পোশাক বিক্রি করতে পারছেন তারা। শীতের প্রকোপ বাড়ায় তুলনামূলকভাবে তাদের পোশাক বিক্রি বেড়েছে। এতে করে তাদের বাড়তি আয় হচ্ছে।

শহরের দড়াটানা মার্কেটের ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে শীত উপশম করাই মুখ্য বিষয়। যতো অল্পতে ভাল কাপড় তারা কিনতে পারে সেদিকেই ছুটে। আর তাই গরীবের এই মার্কেটটি জমে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বেচাকেনা অনেক ভালো। তাই ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে অনেক শীতের পোশাক এনেছি। পুরাতন সোয়েটার, জাম্পার, জ্যাকেটের মূল্য ৬০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি।

যশোর চৌগাছা এলাকার চাকুরিজীবী রাশেদ মিয়া জানান, শহরের একটি কাজে এসেছি। কালেক্টরেট পুরাতন মার্কেটে কম দামে অনেক ভালো শীতের পোশাক পাওয়া যায়। তাই স্বল্প দামে নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য কিছু শীতের পোশাক কিনলাম। এ ছাড়া, শীতের প্রকোপ বাড়ায় গবাদিপশুর গায়েও দেয়া হচ্ছে পাটের চট অথবা পুরোনো গরম কাপড়।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান জানান, পৌষ মাস শুরু হওয়ায় শীত পড়তে শুরু করেছে। শীতের সময় এমনিতেই ভাইরাসজনিত রোগ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য চিকিৎসা নিতে আসা রোগিসহ তাদের সাথে অন্যান্যদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, আজ সোমবার যশোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উচ্চবৃত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা শীতে আয়েশী জীবন যাপন করলেও ছিন্নমল মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। এসব ছিন্নমূল মানুষের কথা চিন্তা করে যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার মধ্য রাতে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা, বাসস্ট্যান্ডে, ফুটপাতে, রেলস্টেশনে থাকা দুই শতাধিক ছিন্নমূল, নারী শিশু,বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করে তাদেরকে উষ্ণ করেন। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফান্ড থেকে দেওয়া এসব কম্বল বিতরণ করেন তিনি।

যশোর রেলস্টেশনে থাকো ছিন্নমূল মানুষের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, রাতে শীতের কারণে যখন ঘুম আসছিল না, তখন স্যার আমাদের কাছে কম্বল নিয়ে হাজির হন। রাতের আঁধারে আমাদের খোঁজ-খবর নিয়ে কম্বল দেয়ায় ডিসি স্যারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আল্লাহ সুস্থতা দান করুক ও স্যারকে হেফাজত করুক।

যশোর রেলগেট এলাকার নুরজাহান কম্বল পেয়ে খুবই খুশি। তিনি দিনের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করেন। রাতে রেল গেট এলাকার একটি ফুটপাতে ঘুমায়। গায়ে কোনরকমে একটা পুরোনো কাপড় জড়ানো ছিলো। তীব্র শীতে তিনি ঠকঠক করে কাঁপছিলো। জেলা প্রশাসক যখন এসে একটি কম্বল গায়ে জড়িয়ে দিল তখন তিনি আবেগ-আপ্লুত হয়ে কাঁদতে লাগলেন।

কম্বল বিতরণ কালে জেলা প্রশাসকের সাথে এসময়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তুষার কুমার পাল (রাজস্ব) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস. এম. শাহীন (সার্বিক), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, জেলা প্রশাসন, যশোরের কর্মকর্তা -কর্মচারীবৃন্দ।



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...