1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  5. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  6. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:৪১ অপরাহ্ন




যশোরে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা হত্যা মামলা ডিপ ফ্রিজে, বিচার নিয়ে শঙ্কিত নিহতের পরিবার

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৫৭ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা : নির্বাচনী ডামাডোলে ডিপ ফ্রিজে চলে গেছে মণিরামপুরের চাঞ্চল্যকর যুবলীগ সভাপতি প্রভাষক উদয় শংকর বিশ্বাস হত্যা মামলা। হত্যাকান্ডের শুরুতে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে আসামী আটকের হৈ হুল্লোড় দেখা গেলেও এক মাস পার না হতেই চুপষে গেছে প্রশাসনিক তৎপরতা। বিশেষ ব্যক্তিদের অদৃশ্য ইশারায় উদয় শংকর বিশ্বাসের শোকাহত মা ছবি রানীকে প্রভাবিত করে নিহতের চাচাতো ভাইকে প্রধান আসামী করায় মামলাটি আঁতুড় ঘরে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল।

এদিকে মাত্র এক মাসের মাথায় থানার ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলছেন, তার জানা নেই মামলাটির সর্বশেষ পরিস্থিতি। তিনি ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেহালপুর ফাঁড়ি ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি তারা মুল আসামী গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

জানা গেছে, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার যুবলীগ নেতা উদয় শংকর বিশ্বাসকে গত (১৬ অক্টোবর) সোমবার তাঁর বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মনিরামপুরের টেকারঘাট বাজার থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে ফেরার সময় বৈকালী এলাকায় দুর্বৃত্তরা উদয় শংকর বিশ্বাসকে (৪৩) গুলি করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত ব্যক্তির মা ছবি রানী বিশ্বাস বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করা হয়। এজাহারভূক্ত চারজন হলো-পবিত্র বিশ্বাস, পরিতোষ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস, সুভাস বিশ্বাস। এর মধ্যে প্রধান আসামি পাঁচাকড়ি গ্রামের পবিত্র বিশ্বাস (৪৫) হলো নিহত উদয় শংকর বিশ্বাসের চাচাতো ভাই । এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। কিন্তু তাঁদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন উপজেলার পাঁচাকড়ি টেকারঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন, বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে তিনজনকে নিয়োগ এবং স্থানীয় একটি মাছের ঘের নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে তাঁর ছেলে উদয় শংকর বিশ্বাসকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পরপরই প্রশাসনের তড়িৎ তৎপরতায় রাত শেষ না হতেই এজাহারভূক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচাকড়ি গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাস (৪৫) ও উত্তম দাস (৩৪) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তারা বর্তমানে জেল হাজতে থাকলেও মামলার প্রধান আসামী নিহতের চাচাতো ভাই পবিত্র বিশ্বাস রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে ঘটনার পরপরই দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তিনি উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া নেহালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংস্কৃত বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং পাঁচাকড়ি টেকারঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন। পাঁচাকড়ি গ্রামের বৈকালী সর্বজনীন পূজা মণ্ডপের সভাপতিও ছিলেন উদয় শংকর। যে কারণে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ফুঁসে ওঠেন এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আটকসহ বিচারের দাবিতে। পবিত্র বিশ্বাসসহ সকল দোষিদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবিতে টেকারঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এরপর ঘটনার দিন রাতে যখন থানায় মামলা দায়ের হয় তখনই সবচিত্র পাল্টে যায়। এর কারণ হিসেবে এলাকাবসী বলছেন, বিশেষ ব্যক্তিদের অদৃশ্য ইশারায় মামলাটি আঁতুড় ঘরেই গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। উদয় শংকর বিশ্বাসের শোকাহত মা ছবি রানীকে প্রভাবিত করে এই মামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্ট করা হয়েছে। কারণ হিসেবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামী নিহতের চাচাতো ভাই পবিত্র বিশ্বাস ছিলেন পাঁচাকড়ি টেকারঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। কিন্তু তিনি আওয়ামী যুবলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হলেও ছিলেন একজন জনপ্রতিনিধি নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের প্রতিপক্ষ অপর গ্রুপের সাথে। যে কারণে ওই জনপ্রতিনিধির রোষানলে পড়ে যান পবিত্র বিশ্বাস। ফলে সেই জনপ্রতিনিধির প্রচেষ্টায় পাঁচাকড়ি টেকারঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদ থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি নেহালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংস্কৃত বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক উদয় শংকর বিশ্বাসকে সভাপতির আসনে বসানো হয়। আর এর মাধ্যমেই শুরু হয় তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব।

এ দিকে উদয় শংকর বিশ্বাসকে সভাপতি মনোনয়ন দেয়ার দুই মাসের মাথায় বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে তিনজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর আরও দুটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই নিয়োগে প্রতি পদের বিপরীতে ৩/৪ জনের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এই টাকা উদয় শংকরের হাত দিয়ে লেনদেন হলেও তিনি নিজে সে টাকায় দাত বসাতে পারেননি। পুরো বান্ডিল ধরেই তুলে দিতে হয় উপজেলার দুই তিনজন জনপ্রতিনিধির হাতে। একপর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাইরে যাদের টাকা নেয়া হয়েছিল তারা টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিতে থাকে উদয় শংকরকে। কিন্তু যেহেতু উদয় শংকর নিজে সেই টাকা ভোগ করেননি সেহেতু তিনি টাকা ফেরত দিতে না পেরে টাকা খাদক সেই জনপ্রতিনিধির দারস্ত হন। আর এটাই হয়তো কাল হয়ে দাঁড়ায় উদয় শংকরের। এর কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় একটি মাছের ঘের নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে জড়িয়ে পড়েন উদয় শংকর বিশ্বাস। যা মামলার বাদী এজাহারেও উল্লেখ করেন।
উদয় শংকর বিশ্বাসের চাচা সুজন বিশ্বাস বলেন, সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উদয় শংকর বিশ্বাস বাজার করতে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেকারঘাট বাজারে যান। বাজার শেষে মোটরসাইকেলে করে তিনি নওয়াপাড়া-কালীবাড়ি সড়ক দিয়ে পাঁচাকড়ি গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বাড়ির সামনে বৈকালী এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে কাঁচা রাস্তা দিয়ে বাড়িতে ঢোকার সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া অপরিচিত দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে পেছন দিক থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। কিন্তু পুলিশ যাদের আটক করেছে তাদের কাউকে বা পলাতক আসামী হিসেবে দেখানো পবিত্র বিশ্বাসকে কেউ দেখেনি।

তিনি বলেন, আমরা চাই খুন যারাই করুক তাদের উপযিুক্ত শাস্তি হোক। কিন্তু কেউ যেন অহেতুক হয়রানীর শিকার না হয়। এই হত্যাকান্ডকে পূঁজি করে রাজনৈতিক কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে মত্ত রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, টেকারঘাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ওই নিয়োগে প্রতি পদের বিপরীতে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে লোকমুখে শোনা যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর আরও দুটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হলে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য হবে। এ ছাড়া ছয় মাস পর বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একটি পদ শূন্য হবে। যুবলীগ নেতা উদয় শংকর বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে বিদ্যালয়ের এই সাতটি পদের নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধ। কিন্তু পুলিশ রাজনৈতিক কারণে হোক আর যে কারণেই হোক বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে চাচ্ছে। কারণ নিহত উদয় শংকর ছিলেন প্রভাবশালী গ্রুপের নেতা ও যুবলীগের সভাপতি। আর মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের সবাই সরকার দলীয় প্রভাবশালী সেই গ্রুপের প্রতিপক্ষ।

পাঁচাকড়ি গ্রামের বৈকালী এলাকার চায়ের দোকানি দশরথ মণ্ডল বলেন, ঘটনার দিন সকালে দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে করে এসে দোকানে বসেন। তাঁরা দুজনে দুই কাপ চান খান। চায়ের দাম দিয়ে তাঁরা দোকানের আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন। এরপর তাঁরা বাসুদেব চক্রবর্তী চায়ের দোকানের দিকে চলে যান।

চায়ের দোকানি বাসুদেব চক্রবর্তী বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি বৈকালী এলাকায় তাঁর দোকানের সামনে এসে থামেন। তাঁদের একজনের মাথায় হেলমেট ছিল, অপরজনের মাথায় ছিল না। তাঁরা দোকান থেকে দুটো সিগারেট কিনে চলে যান। এর খানিকটা পর সাইকেলের চাকা বিস্ফোরণের মতো একটি শব্দ হয়। শব্দ শুনে তাঁরা সেখানে দৌড়ে যেতে যেতে ওই দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। এরপর বাড়িতে ঢোকার মুখে পুকুরপাড়ে সড়কের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদয় শংকর বিশ্বাসকে পড়ে থাকতে দেখেন।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। হত্যা মামলার এজাহারেও এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন , কর্মচারী নিয়োগ ও এলাকায় অধিপত্য বিস্তর করাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

নেহালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন জানান, উদয় শংকর হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি ভূমিদস্যু পবিত্র বিশ্বাস ইতিপূর্বে এলাকায় সরকারি জমি থেকে বেশ কয়েকজন ছিন্নমূল মানুষকে উচ্ছেদ করে দখল দেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মনিরামপুর থানার ওসি শেখ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উদয় শংকর বিশ্বাস হত্যা মামলাটি বর্তমানে কি অবস্থায় আছে তা মামলার তদন্কারী কর্মকর্তা নেহালপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ হান্নান বলতে পারবেন। আমার সে বিষয়ে কিছু জানা নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই হান্নান বলেন, হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধান আসামী পবিত্র বিশ্বাস পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। খুন যেভাবেই হোক প্রধান আসামী পবিত্র বিশ্বাসকে আটক করতে পারলেই হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার হবে আশাকরি।



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...