1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  5. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  6. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শরণখোলায়  সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতিবেশীদের হয়রানীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মাদারীপুরে বাসের ধাক্কায় চলন্ত মোটরসাইকেলে আগুন, নিহত-১ দেশসেরা ক্যাডেট ইনসেন্টিভ এওয়ার্ড পেলেন কুবি বিএনসিসির সিইউও সাদী  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া  রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদনগরে নব-নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত গরীবের পাসেই থাকবো: মুর্শিদ বাঘায় আম বাগান ও ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক সক্রিয় আন্তঃজেলা অপরাধী চক্র, অতিষ্ঠ বলেশ্বর নদীর দুপারের মানুষ উজিরপুরে ডিবির হাতে ২ কেজি গাজা সহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার




যশোরের ৬ টি আসনেই নৌকার বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৫৪ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা: আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছে। নানা দোলাচলে মনোনয়ন বঞ্চিতরা। যশোরের ছয়টি আসনেই শোনা যাচ্ছে বিদ্রোহের আওয়াজ। ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ যশোর-৩ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একই আসনে সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর পক্ষে তার এক ভক্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। যশোর-৬ কেশবপুর আসনে এইচ এম আমির হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এ ছাড়াও যশোর-১, ২, ৪ ও ৫ আসনেও আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসছেন বলে শোনা যাচ্ছে। ঝিনাইদহ ও মাগুরার কোনো কোনো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এদিকে, ইসি অফিস থেকে যশোর-৩ সদর আসনে এমপি কাজী নাবিল আহমেদের মনোনয়নপত্র কিনেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

সারাদেশের ৩০০ আসনে এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৩৩৬২ জন। যা গড়ে প্রতি আসনে নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ১১ জন। কিন্তু নৌকা পেয়েছেন একজন। বাকি ১০ জন এখন কী করবেন, সেই আলোচনা রাজনীতির মাঠে। আর তাতে বেশ জোরেশোরে বাতাস দিচ্ছে বিকল্প প্রার্থী (ডামি) রাখার দলীয় পরামর্শ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আনতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিদ্রোহী তকমা দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের এমন ঘোষণায় নৌকাবঞ্চিত অনেকে লড়বেন নৌকার বিপক্ষে।

‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যেন নির্বাচিত হতে না পারে’ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুরছে। দলীয় প্রতীকের বিপক্ষে প্রার্থী হতে এটিকেই এখন অনুপ্রেরণার জায়গা হিসেবে দেখছেন নৌকাবঞ্চিতরা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অসংখ্য নেতা। যশোরের ৬টি আসনেই দেখা দিয়েছে বিদ্রোহ।

যশোরে তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। কিন্তু তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় বলেছেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাথে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন স্মার্ট ভোট হবে। তিনি বলেন এবারের ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ বিজয়ী হবেন না। কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দলের প্রার্থী ছাড়াও সকলেরই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আছে।
শহিদুল ইসলাম মিলন আরও বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে আজ অবধি আওয়ামী লীগের সাথে বিভিন্ন পদে থেকে দলের নেতাকর্মীদের সাথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবিতে আমি যশোর-৩ সদর আসনে প্রার্থী হয়েছি।

যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ বলেন, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেতা সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা মোতাবেক আমি যশোর-৩ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। দীর্ঘ রাজনীতির জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য দলের প্রার্থী ছাড়াও সকলেরই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আছে। তাই আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি বিজয়ী হলে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গড়বো। আমার প্রার্থী হওয়ার খবরে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ খুবই আনন্দিত।

এদিকে, যশোর-১ শার্শা আসনে বেনাপোলের সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনে সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে ইয়াকুব আলী ও যশোর-৬ আসনে এইচ এম আমির হোসেন মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলে খবর মিলেছে।

এদিকে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছেন, যশোর-৬ কেশবপুর আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহীন চাকলাদারের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এইচ এম আমির হোসেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তুহিন হোসেনের নিকট থেকে এইচ এম আমির হোসেনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার ছেলে আসিফ আমির অর্পণ। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জিল্লুর রহমান বাবু। এইচ এম আমির হোসেন কেশবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে এ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক শাহীন চাকলাদার।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এইচ এম আমির হোসেন বলেন, ‘এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জকে সহযোগিতা করার জন্য আমি মূলত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তুহিন হোসেন বলেন, সোমবার বিকেলে তার কার্যালয় থেকে এইচ এম আমির হোসেনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়া মাগুরা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চুর পক্ষে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন তার দলীয় সমর্থকরা। তিনি এ আসনে ১৯৯৪ সালের উপ নির্বাচন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় এই আসনের ভোটের রাজনীতি নতুন মোড় নিল।

সোমবার সকালে শালিখা উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট থেকে শফিক্জ্জুামান বাচ্চুর পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শলিখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরজ আলী, তালখড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল ও শালিখা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম।

এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মোট ১৫ জন। যার মধ্যে থেকে এ আসনের পরপর ৪ বারের নির্বাচিত এমপি ড. শ্রী বীরেন শিকদারকে এবারো মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

মনোনয়ন ফরম তুলতে যাওয়া আরজ আলী, রিজাউল ইসলাম ও সিরাজ মন্ডলের সাথে কথা বললে এ বিষয়ে তাদের অভিমত হচ্ছে, এ আসন থেকে প্রকৃত মনোনয়নের দাবিদার হচ্ছেন এডভোকেট শফিকুজ্জামান বাচ্চু। তার পিতা এডভোকেট আছাদুজ্জামানের মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়। ওই উপনির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী কাজী কামালের পক্ষে সর্বহারা, সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তার বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়। ওই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলন থেকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৯৬ সালে বাচ্চুকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০০১ সালে শফিকুজ্জামান বাচ্চুকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সে সময় আন্তোর্জাতিক চক্রান্তের কাছে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সহ পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। শফিকুজ্জামান বাচ্চু নানা কারনে এই আসনে নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার। ২০০১ সালে তাকে পরাজিত করানোর জন্যে মাগুরা-২ আসনের প্রভাবশালী এক নেতা ও তার কিছু অনুসারী স্থানীয় ব্যাপক ষড়যন্ত্র করেছে। এবার মাগুরা-১ আসনে সেই নেতারাই অনুসারীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নানা রকম ষড়যন্ত্র করে তার ভাই শিখরকে মনোনয়ন বঞ্চিত করেছে। এটির জবাব দিতেই আমরা শফিকুজ্জামান বাচ্চুর মনোনয়ন কিনেছি। বলতে দ্বিধা নেই এই আসনে শফিক্জ্জুামান বাচ্চুর ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। তিনি কী করবেন সেটা তার ব্যাপার। তবে আমরা চাই তিনি এ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়ে নির্বাচন করুন। যেহেতু স্বতন্ত্র প্রার্থীতাই এবার ছাড় আছে।

এ বিষয়ে শফিকুজ্জমান বাচ্চু বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা মাগুরা-২, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলা। দুই উপজেলা থেকেই আমার নামে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করা হয়েছে। তবে নির্বাচন করা না করা পারিবারিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। তবে আমি আশাবাদি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আনোয়ার আলীর ছেলে পারভেজ আনোয়ার। সোমবার বেলা তিনটায় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র তোলেন।

মনোনয়নপত্র নিয়ে বের হয়ে পারভেজ আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেহেতু জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উৎসবমুখর পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন দেখতে চেয়েছেন, সে ক্ষেত্রে দলের মধ্যে কোনো প্রার্থী হলে কোনো সমস্যা নেই। তাই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি। আমার বাবা আনোয়ার আলী দীর্ঘ জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন। আর কুষ্টিয়াকে আরও উন্নত করতে জনগণের সত্যিকারের সেবা করার জন্য সংসদ নির্বাচনে আসলাম। ভোটের ফলাফল পর্যন্ত মাঠে থাকব।’

মনোনয়নপত্র কিনে খোলা মাইক্রোবাসে উঠে পারভেজ আনোয়ার শহর প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তাঁর গাড়ির সামনে ও পেছনে শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন। তিনি হাত নেড়ে সড়কের পাশে মানুষকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন।

কুষ্টিয়া-৩ আসনে দুবারের সংসদ সদস্য হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি আবারও নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, পারভেজ আনোয়ার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করেছেন। বর্তমানে কোনো পদে নেই। তবে তাঁর বাবা আনোয়ার আলী আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা। একসময় জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এ ছাড়া ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র হিসেবে আছেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন উন্মুক্ত করেছেন। তনুর কোনো পদপদবি নেই। তাঁর বাবা আমাদের প্রবীণ নেতা। তবে জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়ার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। তাঁর নৌকার বাইরে কেউ ভোট দেবে না। জনগণ তাঁকেই আবার সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায়।’

রোববার আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী। তিনি দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকার প্রার্থী প্রয়াত আফাজ উদ্দীন আহমেদকে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এবারও নৌকার বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুর রউফ। সোমবার বিকেলে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বিতান কুমার মণ্ডলের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র নেন। ইউএনও মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ। আবদুর রউফ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে দশম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আবদুর রউফ বলেন, ‘আমি নৌকার এমপি হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করে জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি। সে জন্য এবারও দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সে জন্য জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করব।’



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...