1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  5. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  6. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :




পাবনায় একই পরিবারের ৭ জন আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী,দ্বিধাদ্বন্দে বিভক্ত ঈশ্বরদীবাসী

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৪৬ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে (ঈশ্বরদী আটঘরিয়া) পাবনা-৪ আসনে প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর পরিবার থেকেই সাতজন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) হতে চান। এদের মধ্যে রয়েছেন আপন তিন ভাই-বোন ও ভগ্নিপতিসহ ৪ জন। আর প্রয়াত মন্ত্রীর আত্মীয় আরো ৩ জন। এই মোট ৭ জন নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন। এক পরিবার থেকে এতজনের মনোনয়ন ফরম তোলা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। এতে পরিবারটির মাঝে অভ্যন্তরীণ বিভক্তির বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

ঈশ্বরদীর সাধারণ জনগণ মনে করেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর পরিবারে প্রকাশ্যে দ্বন্দ তৈরি হয়েছে। পারিবারিক সম্পর্ক ভালো থাকা তো দূরের কথা বর্তমানে কেউ কারও সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেন না। নিজেরাই যদি এমন হয়ে চলাফেরা করেন তাহলে তারা আওয়ামী লীগের মতো দল পরিচালনা করবেন কীভাবে? নিজেরা যদি শৃঙ্খলা বজায় না রাখেন তাহলে মনোনয়ন পেয়ে এরা কী করবেন? পরিবারের এই দ্বন্দ ঈশ্বরদী আটঘরিয়াতে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে পারে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, এই আসনের প্রয়াত সাংসদ ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর বড় ছেলে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গালিবুর রহমান শরীফ, মেঝো ছেলে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সাকিবুর রহমান শরীফ কনক, মেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহজেবিন শিরিন পিয়া এবং জামাতা (পিয়ার স্বামী) ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু।

এছাড়া মনোনয়ন জমা দিয়েছেন প্রয়াত ভূমিমন্ত্রীর খালাতো ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বশির আহমেদ বকুল, ফুপাতো ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব ও ভগ্নিপতি (খালাতো বোনের স্বামী) উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৪ সংসদীয় আসনটিতে শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ১৯৯৬ সাল থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০২০ সালে শামসুর রহমান শরীফ ডিলু বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে পৃথকভাবে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে উপনির্বাচনে শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী কামরুন্নাহার, দুই ছেলে, মেয়ে, জামাতাসহ পরিবারের সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। সেই থেকে বিভক্তি শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যেও বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়। ধারণা করা হয় সেজন্যই হয়তো মনোনয়নবঞ্চিত হয় পরিবারটি। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে। তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন।

এরপরও ডিলু পরিবারের সদস্যরা হাল না ছেড়ে আবারও মনোনয়ন প্রত্যাশায় তারা পোস্টার ব্যানার টানিয়ে ও মিছিল-মিটিং করে প্রচারণা শুরু করেন। বাড়ির সামনেও দেখা গেছে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে দুই ভাইয়ের পৃথক বিলবোর্ড। এতে পরিবারটির সঙ্গে দলের মধ্যেও চরম বিভক্তি তৈরি হয়। যা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে পরিবারের ছয় সদস্যর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে।

এ বিষয়ে মাহজেবিন শিরিন পিয়া বলেন, আমাদের পরিবারে কোনো দ্বন্দ নেই। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। সবাই ভালো ভালো পোস্ট-পদবিতে রয়েছি। যেহেতু আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, তাই এর শাখা প্রশাখার পরিসর বৃহৎ। এজন্য আমরা দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছি। নেত্রী যাকে নৌকার মাঝি করবেন তার পক্ষে আমরা কাজ করব।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী সাকিবুর রহমান শরীফ বলেন, এখানে কোন গ্রুপিং ও বিভক্তি নেই। সবার মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। সবাই সবার মতো করে কাজ করছি। যে দলীয় মনোনয়ন পাবে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করব।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, গালিবুর রহমান শরীফ নিজের মেধা, শ্রম, দক্ষতা এবং ভালোবাসা দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর কয়েকমাস আগে অনুমোদন দেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদ পাওয়ার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আর মেয়ে মাহজেবিন শিরিন বাবা জীবিত থাকতেই রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিজের পরিচয়েই আমার মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। কারণ আমি কোনো পরিবারের পরিচয়ে রাজনীতি করি না। ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে আওয়ামী লীগে এসেছি। দলীয় কাউন্সিলরদের ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। যদি নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করব।

এছাড়াও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, বাগানে অনেক ফুল ফুটবে এটাই স্বাভাবিক। নেত্রী বেছে নেবেন একটি। তবে দলের জন্য ক্ষতি হয় এমন কাজ কারও করা উচিত নয় বলে মনে করি।



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...