1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  5. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  6. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে : নসরুল হামিদ মানুষের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা রয়েছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ৫ বছরে সরকারি চাকরি পেয়েছেন কতজন, জানালেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী নির্দেশনা না মানলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘বিএনপির আটক কর্মীদের মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই’ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরকারের একটি অমানবিক খেলা: রিজভী একা একা লাগে মাহিয়া মাহির রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখবে সরকার: কাদের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য টগরকে নাগরিক সংবর্ধনা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৩৩টি গাঁজাগাছ সহ নারী গ্রেপ্তার




তিন মেয়াদে এমপি রণজিতের ২৫ গুণ সম্পদ বেড়েছে, পিছিয়ে নেই স্ত্রী নিয়তী

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৬৯ বার পঠিত

জেমস আব্দুর রহিম রানা: যশোর-৪ আসনে তিন বারের সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়ের বার্ষিক আয় বেড়েছে ২৫ গুণ। ২০০৮ সালে রণজিতের বার্ষিক আয় ছিলো এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা; বর্তমানে ২০২৩ সালে এ আয় ২৫ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৩ টাকা। আয়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ২০০৮ সালে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের হলফনামায় তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রী নিয়তি রানীও অর্জন করেছেন অঢেল সম্পদ। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা ২০০৮ ও ২০২৩ সালের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। এইচএসসি পাস রণজিতের আয়ের উৎস পারিতোষিক (উপহার), ব্যবসা, কৃষি ও ভাড়া আদায়।

তিনি যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। টানা তিনবার সংসদ সদস্য থাকায় তার ভাগ্যবদল হয়েছে। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুণ। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা ২০০৮ ও ২০২৩ সালের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, রণজিত কুমার রায়ের বর্তমান (২০২৩) বার্ষিক আয় ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৩ টাকা। যা ২০০৮ সালে ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এ অনুযায়ী তার আয় বেড়েছে ২৫ গুণ। তার স্ত্রীর বর্তমানে কোনো আয় নেই। আগেও ছিল না।

২০০৮ সালের হলফনামায় উল্লেখ করা হয় রণজিত কুমার রায়ের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের হলফনামায় তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় সংসদ রণজিত কুমার রায় উল্লেখ করেছিলেন, স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার স্ত্রী নিয়তী রানীর সম্পদের মূল্যে ৮৫ হাজার টাকা। দেড় দশক পরে এবারের হলফনামায় তিনিই উল্লেখ করেছেন, স্ত্রী নিয়তীর বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৯৮ টাকা। একই সাথে স্ত্রীর কোন গাড়ি না থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রাইভেট কার।

২০০৮ সালে রণজিত কুমার রায়ের কাছে এক লাখ টাকা নগদ থাকলেও বর্তমানে এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্যের স্ত্রীর কাছে ৭০ হাজার টাকা নগদ ছিল। বর্তমানে তার স্ত্রীর কাছে ৫১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪০ টাকা আছে। পূর্বে ব্যাংকিং সঞ্চয় ডিপিএস হিসেবে কোনো টাকা না থাকলেও বর্তমানে রণজিত রায় দম্পতির ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯২টাকা আছে। তার কোন দায় দেনা নেই। হলফনামায় রণজিত কুমার রায় তার সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করেননি।

হলফনামা বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, এমপি রণজিত কুমার রায় ২০০৮ সালে ৪ বিঘা কৃষি জমি পৈত্রিক সূত্রে পেলেও বর্তমানে ১২ বিঘা জমির মালিক স্ত্রীর নামে ২০০৮ সালে কোন জমি বা বাড়ি না থাকলেও বর্তমানে ৩টি বাড়ি রয়েছে। যার মূল্য হলফনামার তথ্য অনুযায়ী এক কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। একই সাথে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ৫০ লাখ টাকার উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালে রণজিত কুমার রায়ের কাছে এক লাখ টাকা নগদ থাকলেও বতমানে এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। ২০০৮ সালে এমপির স্ত্রীর কাছে ৭০ হাজার টাকা নগদ ছিল। বর্তমানে তার স্ত্রীর কাছে ৫১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪০ টাকা রয়েছে। পূর্বে ব্যাংকিং সঞ্চয় ডিপিএস হিসেবে কোন টাকা না থাকলেও বর্তমানে এমপি রণজিত রায় দম্পতির ২৭ লাখ ৩৮হাজার ৪৯২টাকা আছে। তার কোন দায় দেনা নেই। এছাড়া রনজিত রায় মাত্র এক লাখ টাকায় কিনেছেন ১২ বিঘা জমি। সে হিসাবে প্রতি বিঘা জমির মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অবিশ^াস্ত হলেও এই তথ্য হলফনামাতে উল্লেখ করেছেন তিনি। স্ত্রী ও নিজের সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করলেও হলফনামায় এমপি রণজিত কুমার রায় তার সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করেননি।

রাজনৈতিক নেতারা জানান, সাংসদ রণজিত রায়ের পছন্দের বাইরে গত ১৫ বছরে বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি ও তার স্ত্রী নিয়তি রানী পর্যায়ক্রমে দুই উপজেলার অন্তত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন গোটা সময় জুড়ে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় একাধিকবার শিরোনাম হয়েছেন দুজনই। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রণজিত সংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিয়োগবাণিজ্যে পুনর্বাসিত করেছেন জামায়াত-বিএনপিদের। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজাকারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীকে নানাভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে উপজেলা নেতাকর্মীর মধ্যে সৃষ্টি হয় ক্ষোভ। ফলে দুই উপজেলা ও তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে বিরোধ প্রকাশ্যে। ফলে এসব কারণে সমালোচিত রনজিতকে এ কারণে মনোনয়ন দেয়নি বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

এই বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান বলেন, হলফনামাতে রনজিত যা উল্লেখ করেছেন সব মিথ্যা। বাংলাদেশ ও ভারতে দুই দেশেই তার বাড়ি রয়েছে। এমনকি আমার ইউনিয়নে যত জমি কিনেছে তার দামই কোটি টাকা। এছাড়া তিন মেয়াদে তিনি সংসদ নির্বাচিত হওয়াতে কয়েক কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন তিনি।

বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বলেন, রণজিত এমপি হওয়ার পরে উপজেলার যত নিয়োগ হয়; চাকরি দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনদের। আমজাদ রাজাকারের পরিবারকে সমর্থন দিয়েছেন। নানা কাজে সমোলোচিত কারণে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। ওনি তো জামাত বিএনপিদের পৃষ্টপোষক। তাদের ভোট নেওয়ার জন্য তিনি দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দলের কোন নেতাকর্মীরা তার পিছনে নেই। দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করলে রণজিতের জামানতও বাঁচবে না বলে তিনি মনে করেন।

সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায় প্রতিবেদক জেমস রহিম রানাকে বলেন, এব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই। আমি তিনবারের সংসদ সদস্য। হলফনামায় আয়কর বিবরণী ফাইল অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। আমার আয় বহির্ভূত কোনো সম্পদ নেই।

 

n/v



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...