1. news.rifan@gmail.com : admin :
  2. smborhan.elite@gmail.com : Borhan Uddin : Borhan Uddin
  3. arroy2103777@gmail.com : Amrito Roy : Amrito Roy
  4. hmgkrnoor@gmail.com : Golam Kibriya : Golam Kibriya
  5. mdmohaiminul77@gmail.com : Md Mohaiminul : Md Mohaiminul
  6. ripon11vai@gmail.com : Ripon : Ripon
  7. holysiamsrabon@gmail.com : Siam Srabon : Siam Srabon
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৭ দফা দাবি আদায়ে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম ও উপাচার্য আর কোষাধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত যবিপ্রবি, থাকছে ৫ স্তরের নিরাপত্তা  চুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে উত্তাল চুয়েট ২২ এপ্রিল নওগাঁ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও আলোক প্রজ্জালন শ্রীপুরে তালাবদ্ধ ঘরে গৃহবধূ আজিদা বেগমকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী সহ আটক-২ মাদক অপরাধ করতে উৎসাহিত করে: বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর  রাজশাহীর বাঘায় বৃষ্টি প্রার্থনা করে নামাজ আদায় বিরামপুরে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ  পিরোজপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা ঝিনাইদহে ১০ কেজি গাঁজা’সহ ১ মা’দ’ক ব্য’ব’সায়ী আ’ট’ক




টার্গেট বান্দরবান বিস্ফোরনের শব্দে কেঁপে উঠে পাহাড়ি গ্রামগুলো

  • সর্বশেষ পরিমার্জন: শুক্রবার, ২৬ মে, ২০২৩
  • ১০৩ বার পঠিত

জাহিদ হাসান বান্দরবান প্রতিনিধি: সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের পদচারণা ভারী হয়ে উঠেছে পার্বত্য বান্দরবানের থানচি, রুমা রোয়াংছড়ি। নামের ভিন্নতা থাকলেও পাহাড়ে সব ক’টি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের লক্ষ্য অভিন্ন। পরিস্থিতি অশান্ত করতে সন্তু বাবুর গোপন মিশন। এ মিশনে প্রতিবেশি যারা সহযোগিতা করে চলছে, তারা কোন চিন্তা থেকে বাঘের ঘরে ঘোগ দিচ্ছে সেটাই এখন মূখ্য বিষয়। সড়ক নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার তিন জেলার ঘোটা পাহাড়কে নিরাপত্তার বলয়ে নিয়ে এসেছে। সুতরাং এ সব সন্ত্রাস দমন করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপারেশন যথেষ্ট।

সাম্প্রতিক সময়ে সবার কাছে যে বিষয়টি লক্ষনীয়, তা হচ্ছে “টার্গেট বান্দরবান”।পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি অঞ্চল পার্বত্য বান্দরবান। নিকট অতীতেও এ জেলাটি ছিল শান্ত । এখানকার সর্বোচ্চ পর্বত উঁচু-নিচু পাহাড় আর পাহাড়ের বুক জুড়ে রয়েছে স্রষ্টার নিপুণ সৃষ্টি। বান্দরবানের পাহাড় প্রাকৃতির নিদর্শন দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসতেন। পর্যটন খাতে সংশ্লিষ্টদের আয় বৃদ্ধি পেয়ে জেলার সার্বিক সূচকে ইতিবাচক ছোঁয়া লেগেছ। প্রতিদিন পর্যটন খাতে আয় হতো লাগলো লক্ষ লক্ষ টাকা। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উগ্রতায় সম্ভাবনাময় এই খাতটি আর অগ্রসর হতে পারে নাই। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গোষ্ঠির একেরপর এক সশস্ত্র হামলায় নিরাপত্তাজনিত কারনে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যায়। যে বান্দরবানের পাহাড়গুলোতে দেশি-বিদেশি আগুন্তকদের অবাধে বিচরণ ছিলো, সে সব পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নির্বিঘ্ন পদচারণা। সবুজ পাহাড়ে নির্মূল বাতাশের বিশুদ্ধতায় বারুদ এর গন্ধ মিশে দম বন্ধের উপক্রম। যার ফলে পর্যটক শূন্য ঘোটা বান্দরবান। শান্তির এই জনপদে এখন শুধু আতঙ্ক, লাশের মিছিল লম্বা হচ্ছে।

সূত্রমতে সম্প্রীতির এ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সাবেক পাহাড়ের সন্ত্রাসী প্রধান ও বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা। এর সাথে যুক্ত দেশি বিদেশি একটি চক্র এবং আঞ্চলিক কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন। প্রথমে তারা বেছে নেয় ভৌগলিক দিক থেকে ভারত মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেষা বান্দরবান জেলাকে। জোরদার করে থানচি ও রুমাসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এরই মাঝে র‌্যাব, পুলিশসহ যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বান্দরবানের গহীন অরণ্য থেকে বিপুল পরিমার অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। একই সময় দুর্গম পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণের অভিযোগে “জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শরকিয়া” নামের একটি জঙ্গি সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী। গত ১৭ মে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়িতে সেনা টহলের উপর হামলা করে। সে হামলায় দু’ জন সেনা সদস্য নিহত হয়। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত ওই হামলায় দু’জন সেনা কর্মকর্তা আহত হন। ওই ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিলাইছড়ি উপজেলার জারুলছড়িপাড়া নামক স্থানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আস্তানার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ওই স্থানের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। টহল দলটি জারুলছড়িপাড়ার কাছে পানির ছড়ার কাছাকাছি পৌঁছালে কেএনএফ সন্ত্রাসীদের ইম্প্রোভাইজ্ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বিস্ফোরণ ও অতর্কিত গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে, এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায়

তারও আগে রুমায় আরেক জন সেনা অফিসার (জুনিয়র কমিশন) খুন হয়। এর কিছুদিন পর সড়ক নির্মান কাজে নিয়োজিত ইসিবির এক সার্জেন্ট (অব:)কে অপহরণ করেন। উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত এ রকম অসামরিক অনেক মানুষকে তারা খুন অপহরণ, মুক্তিপন আদায় করে চলছে।

২৩ মে বান্দরবানে মাইন বিস্ফোরণে এক নির্মান শ্রমিকের মৃত্যু হয় আহত হয় সঙ্গীয়রা। কার নিরাপত্তায় তারা এ সব করছে? রুমা থানচির বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মাটিতে মাইন পুঁতে রাখার মতন ভয়ঙ্কর কাজ করছে তারা। কিছুদিন আগে পাহাড়ে এক নতুন সশস্ত্র সংগঠন “কেএনএফ” নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে (কেএনএফ) একটি সামরিক শাখা। বছরখানেক আগে বান্দরবানে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে কেএনএফকে অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা। আর এসব অস্ত্র আসছে মিয়ানমার, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশ থেকে।

সম্প্রতি পাওয়া একটি সূত্রে জানাযায়, জনসংহতি সমিতির থাইল্যান্ড প্রতিনিধি হলেন যুব্বুর চাকমা। তার বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলার হরিনা এলাকায়। জানাযায় তিনি বার্মা ও থাইল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন। থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি পাকিস্তান ও বার্মা সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করতে জনসংহতি সমিতিকে সাহায্যের অনুরোধ জানান।

সূত্রমতে জেএসএসের অনুরোধে পাকিস্তান রাজি হয়, তবে একটি শর্তে, আর তা হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গ্রুপের কাছে অস্ত্র ও গোলা বারুদ পাঠাতে জেএসএস পাকিস্তানের আইএসআই-কে সাহায্য করবে। জেএসএস এতে সানন্দে রাজি হয়।
এরপর ঘটনা দ্রুত ঘটতে থাকে। গত ২০১৯ ও ২০২০ সালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বার্মা-বাংলাদেশ সীমান্তের কোন একটি পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় বিদ্রোহীদের কাছে পাঠানোর জন্য দুই চালান অস্ত্র জেএসএস-এর হাতে তুলে দেয়। তখন জেএসএস সভাপতি এই সব অস্ত্র তাদের দলের জন্য বলে তার দলের লোকজনদের মধ্যে প্রচার করে। তথ্যমতে সমঝোতা মোতাবেক এইসব অস্ত্রের চালান থেকে জেএসএস একটি অংশ লাভ করে মাত্র। আর সেই অস্ত্র দিয়ে জেএসএসের সদস্যরা পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। স্থানীয়রা বলছেন এই অস্ত্র চালানগুলোর অপর একটি অংশ কুকি-চিন ন্যাশন্যাল ফ্রন্টের হাতে পড়ে থাকতে পারে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জেএসএসের এই ভারত ও বাংলাদেশ বিরোধী আন্তর্জাতিক তৎপরতা সম্পর্কে পুরোপুরি না জানলেও ভালোভাবে আঁচ করতে পারে। সম্প্রতি যুব্বুর চাকমা বাংলাদেশে আসলে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং জিজ্ঞাসাবাদে জেএসএসের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন। সূত্রমতে; জনসংহতি সমিতির এসব ভারত বিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারত সরকার সন্তু লারমাকে ডেকে পাঠায়। সন্তু লারমার সাম্প্রতিক ভারত সফরের কারণ হলো এটাই। অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তথ্য প্রমাণসহ জেএসএসের ভারত বিরোধী তৎপরতার বিবরণ সন্তু লারমার কাছে তুলে ধরেন এবং এ ব্যাপারে তার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। সন্তু লার্মা কিছু অভিযোগ স্বীকার করলেও আরও অনেক বিষয় এড়িয়ে যান বলে জানা যায়। তথ্য সূত্র অনুযায়ী
জেএসএসের মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, জেএসএস আর আগের মতো কেবল ভারত সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়। জেএসএসের এখন অনেক আন্তর্জাতিক বন্ধু রয়েছে। ওইসব বন্ধুদের কাছ থেকে তারা অর্থ ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পেয়ে থাকে।

তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে সন্তু লারমা ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সাথে সংযোগ না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি তা আদৌ রক্ষা করবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারণ সন্তু লারমা হলেন এমন একজন ব্যক্তি যাকে কখনই বিশ্বাস করা যায় না। নিজ স্বার্থে তিনি এমন কোন কাজ নেই যা করতে পারেন না। বার্মা ও পাকিস্তান যদি জেএসএসকে দিয়ে নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের জল ঘোলা করতে চায়, তাহলে তা এই দুই দেশের সরকারগুলোর জন্য এক বিরাট মাথা ব্যথার কারণ হবে।অনেকের মতে সন্তু লারমার নির্বাধে এসব দেশবিরোধী কাজ চালিয়ে যেতে পারার কারণ হলো; আঞ্চলিক পরিষদে তার অবস্থান। এই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে তিনি অনেক কিছু করতে পারছেন এবং অনেক সুবিধা নিতে পারছেন। অথচ তারপরও সরকার সমালোচনার ভয়ে তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে সময় থাকতে জেএসএস এবং বিশেষত সন্তু লারমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরিস্থিতি পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন পর্যায়ে চলে যেতে পারে। আর এতে বাংলাদেশ ও ভারতকে চরম মূল্য দিতে হবে। তাই এ ক্ষেত্রে সরকারের উচিত নির্বাচনের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে সন্তু লারমাকে হটানোর ব্যবস্থা করা।

সংবাদ প্রেরক……



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরও খবর...